Image
  • Sunday, 19 May 2024
যুবলীগের ইতিহাস

যুবলীগের ইতিহাস

যুবলীগের ইতিহাস

সূচনা

 

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক শহীদ শেখ ফজলুল হক মনি ১৯৭২ সালের ১১ নভেম্বর বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের মূলমন্ত্র গণতন্ত্র, শোষনমুক্ত সমাজ অর্থাৎ সামাজিক ন্যায়বিচার, জাতীয়তাবাদ, ধর্ম নিরপেক্ষতা অর্থাৎ সকল ধর্মের মানুষের স্ব স্ব ধর্ম স্বাধীনভাবে পালনের অধিকার তথা জাতীয় চার মুলনীতিকে সামনে রেখে বেকারত্ব দূরীকরণ, দারিদ্র দূরীকরণ, দারিদ্র বিমোচন, শিক্ষা সম্প্রসারন, গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপদান, অসাম্প্রদায়ীক বাংলাদেশ ও আত্মনির্ভরশীল অর্থনীতি গড়ে তোলা এবং যুবসমাজের ন্যায্য অধিকারসমুহ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যুবলীগের প্রতিষ্ঠা।
এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে দেশের সকল শ্রেণী ও পেশার মানুষের মধ্য থেকে স্বাধীনতা ও প্রগতিকামী যুবক ও যুব মহিলাদের ঐক্যবদ্ধ করে তাদের রাজনৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে একটি সুশৃঙ্খল সংগঠন গড়ে তোলাই যুবলীগের উদ্দেশ্য। প্রতিষ্ঠার পর থেকে যুবলীগের নেতা কর্মীরা দেশ গঠনে আত্মনিয়োগ করে ।

 

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশে শেখ ফজলুল হক মনির নেতৃত্বে ১৯৭২ সালের ১১ নভেম্বর রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে এক যুব কনভেশনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠা লাভ করে সংগঠনটি। গত চার দশকের বেশি সময় ধরে দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রাম ও হাজারও নেতাকর্মীর আত্মত্যাগের মাধ্যমে যুবলীগ দেশের সর্ববৃহৎ যুব সংগঠনে পরিণত হয়েছে।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অন্যতম সহযোগী সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ।

 

৫০ বছরের গৌরবের ইতিহাস

 

১৯৭২-২০১৯

যুবলীগ প্রতিষ্ঠার প্রধান লক্ষ্য ছিলো বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের মূলমন্ত্র গণতন্ত্র, সামাজিক ন্যায়বিচার, বাঙালি জাতীয়তাবাদ, ধর্ম নিরপেক্ষতা তথা জাতীয় চার মূলনীতিকে সামনে রেখে বেকারত্ব ও দারিদ্র বিমোচন, শিক্ষাসম্প্রসারণ, গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপদান, অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ ও আত্মনির্ভরশীল অর্থনীতি গড়ে তোলায় সহযোগিতা এবং যুবসমাজের ন্যায্য অধিকারসমূহ প্রতিষ্ঠাসহ দেশে গঠনের সংগ্রামে দেশের যুব সমাজকে সম্পৃক্ত করা।

 

স্বাধীনতা অর্জনের পর যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে স্বাধীনতার লক্ষ্য অর্জনসহ বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে পুণর্গঠনের কাজ শুরু হয়। পাকিস্তানী শোষকদের দীর্ঘ শোষণ, ব্যঞ্জনা, অন্যায়ের পর লাখো শহীদের রক্ত ও মা-বোনের মহান ত্যাগ, কোটি বাঙালির আবেগের ফসল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর পরই নানাবিধ সমস্যার সম্মুখীন দেশ ও জাতি। ঠিক তখনই বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে ১৯৭২ সালের ১১ নভেম্বর শেখ ফজলুল হক মনির হাত ধরে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে এক যুব কনভেনশনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ।

 

ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (আইইবি) মিলনায়তনে যুবলীগ গঠনের কনভেনশনে শেখ ফজলুল হক মনি সভাপতিত্ব করেন। এতে সিরাজুল আলম খান, আবদুর রাজ্জাক ও তোফায়েল আহমেদ উপস্থিত ছিলেন। সারা দেশ থেকে কয়েক হাজার যুবকর্মী সেদিন সেখানে এসেছিল। আহ্বায়ক কমিটি গঠনের দায়িত্ব দেয়া হয় শেখ মনিকে। দুদিন পরেই ১১ সদস্যের স্টিয়ারিং কমিটি গঠন করা হয়। কিছুদিনের মধ্যে প্রথমে ২১ ও পরে ৩৫ সদস্যের কার্যকরী কমিটি ঘোষণা করা হয়।

 

যুবলীগ গঠনের কনভেনশনে দেড় ঘণ্টার এক গুরুত্বপূর্ণ ভাষণে শেখ মনি নতুন দেশের অর্থনীতি-কৃষিনীতি ও শিল্পনীতি বিষয়ে বক্তব্য প্রদান করেন। সোভিয়েত ইউনিয়ন ও চীনের মতো সমাজতান্ত্রিক দেশের অনুকরণে তিনি যুবলীগের সম্মেলনকে কংগ্রেস, সভাপতির পরিবর্তে চেয়ারম্যান ও সহসভাপতির পরিবর্তে প্রেসিডিয়াম নামকরণ করেন।

 

প্রতিষ্ঠার পর থেকেই সারাদেশে যুবশক্তিকে কাজে লাগিয়ে দেশ গঠনে আত্মনিয়োগ করে। সরকারের বিভিন্ন কর্মকান্ডকে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে তৎকালীন যুবলীগ সারাদেশে তাদের কর্মযজ্ঞ শুরু করে। সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা শেখ ফজলুল হক মনি ছিলেন ষাটের দশকের সারাজাগানো ছাত্রনেতা ও একজন মেধাবী দূরদর্শী মানুষ। তিনি একাধারে মহান মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, মুক্তিযুদ্ধের সময় গেরিলাবাহিনী মুজিববাহিনীর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান, লেখক, সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠক ছিলেন। যার ফলে যুবলীগ প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে সারাদেশে ছড়িয়ে দিতে খুব অল্পদিনের মধ্যেই যুবলীগ সময়োপযোগী সংগঠন হিসেবে প্রমাণিত হয়। শেখ ফজলুল হক মনির দূরদর্শী রাজনৈতিক প্রজ্ঞার কারণে যুবলীগ অল্পদিনে আওয়ামী লীগের প্রাণশক্তি হয়ে ওঠে।

 

যুবলীগের তৃতীয় বর্ষে পদার্পণের আগেই ১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট ঘটে যায় বাঙালি জাতির জীবনে অন্ধকার অধ্যায়। বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যা করে স্বাধীনতাবিরোধী চক্র। একই দিনে বঙ্গবন্ধুর অন্যতম বিশ্বস্ত হাতিয়ার, বাংলাদেশের রাজনীতিতে মাত্র ৩৫ বছর বয়সে চৌকশ ভূমিকায় অবর্তীর্ণ হওয়া তৎকালীন যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলুল হক মনিকেও স্বস্ত্রীক হত্যা করে ঘৃণিত নরপিচাশরা। দেশ পরে একটি দীর্ঘ সংকীর্ণতার যাঁতাকলে। একের পর এক সামরিক অপশক্তির ক্ষমতা দখল, আওয়ামী লীগকে নিশ্চিহ্ন করার নানামুখী ষড়যন্ত্র এবং দীর্ঘ রাজনৈতিক সংকটের বেড়াজালে পড়ে সংগঠনটি। বঙ্গবন্ধু ও শেখ ফজলুল হক মনির অনুপস্থিতিতে যুবলীগ একটি চরম দুঃসময়ের সম্মুখীন হয়।

 

যুবলীগের দীর্ঘ ইতিহাসে যুদ্ধিবিধ্বস্ত দেশ গঠন, অসাম্প্রদায়িক চেতনার বিকাশ, বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ, তরুণদের অধিকার আদায়ের লড়াই, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন-সংগ্রাম থেকে শুরু করে বাংলাদেশের জাতীয় জীবন, আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ভূমিকা পালনসহ ইতিমধ্যেই যুবলীগ ৫০ বছরের গৌরবোজ্জ্বল সময় পাড় করেছে গণমুখী সংগঠন হিসেবে।


যুবলীগ প্রতিষ্ঠার পর থেকে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বাধীন সরকারের বিভিন্ন গণমুখী কার্যক্রম সামাজিকভাবে প্রচারের কাজে আত্মনিয়োগ করে যুবলীগ। বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের পর দেশের বিভিন্ন স্থানে রাজপথে নেমে আন্দোলন করেছে যুবলীগ। এ সময় চট্টগ্রামের যুবলীগ নেতা মৌলভী ছৈয়দ আহমদ, বগুড়ার যুবলীগ নেতা আব্দুল খালেক খসরুকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর খন্দকার মোশতাক, জেনারেল জিয়া ও জেনারেল এরশাদের সময় আওয়ামী লীগকে নিশ্চিহ্ন করার গভীর ষড়যন্ত্র শুরু হয়। জাতির কল্যাণ ও গণতন্ত্র পুণরুদ্ধারের জন্য আওয়ামী লীগের দায়িত্ব তুলে দেয়া হয় বর্তমান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে। দীর্ঘ ২১ বছর আওয়ামী লীগ ছিলো স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির ষড়যন্ত্রের করতলে। এ সময় আওয়ামী লীগের পাশে থেকে যুবলীগ এক অনন্য ভূমিকা পালন করেছে এবং কেন্দ্র থেকে শুরু করে সারাদেশে যুবলীগের নেতা-কর্মীরা সহ্য করেছে নির্যাতন। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে যুবলীগ সারাদেশে ব্যাপক ভূমিকা পালন করে। ওই সময়ে (১৯৮৭ সালের ১০ নভেম্বর) যুবলীগ নেতা নূর হোসেন প্রাণ দিয়েছিলেন এবং তাঁর আত্মদানের পর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন আরও বেগবান হয়। ১৯৯০ সালের ২৭ আগস্ট ঢাকা মহানগরের তৎকালীন ৫৩নং ওয়ার্ড যুবলীগ সভাপতি বদর উদ্দিন আহাম্মদ স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে শহীদ হন।

 

দীর্ঘ ২১ বছর পর জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ১৯৯৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ের লক্ষ্যে যুবলীগ অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলো। ২০০৪ সালের ২১ আগষ্ট বিএনপি-জামাত সরকারের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় ইতিহাসের আরেক নেক্কারজনক ঘটনা জননেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে গ্রেনেড হামলা করা হয়। এর প্রতিবাদে যুবলীগ সারাদেশে আন্দোলনের ঝড় তোলে এবং অসংখ্য নেতা-কর্মী ও সমর্থক জেল-জুলম-নির্যাতনের শিকার হয়। পরবর্তী সময়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আন্দোলন, ১/১১-এর পর জননেত্রী শেখ হাসিনাকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদ ও মুক্তির দাবীতে আওয়ামী লীগের সফল আন্দোলনের প্রত্যক্ষ ছায়াসঙ্গী হিসেবে কাজ করে যুবলীগ এবং ২০০৮ সালে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতা গ্রহণে যুবলীগের ভূমিকা ছিলো সবচেয়ে বেশী। এছাড়াও যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে আন্দোলন, বিভিন্ন সময়ে হেফাজতের তান্ডব ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে রাজপথে থেকেছে যুবলীগ।

 

মোট সাতটি জাতীয় কংগ্রেসের মাধ্যমে বিভিন্ন সময়ের যুবলীগ থেকে উঠে এসেছে উজ্জ্বল নেতৃত্ব। ১৯৭৪ সালে অনুষ্ঠিত হয় প্রথম জাতীয় কংগ্রেস। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উপস্থিতিতে শেখ ফজলুল হক মনি চেয়ারম্যান ও এডভোকেট সৈয়দ আহমদ সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৭৮ সালে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় কংগ্রেসে আমির হোসেন আমু চেয়ারম্যান ও ফকির আব্দুর রাজ্জাক সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৮৬ সালে তৃতীয় কংগ্রেসে মোস্তফা মহসীন মন্টু চেয়ারম্যান ও ফুলু সরকার সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালে অনুষ্ঠিত চতুর্থ কংগ্রেসে শেখ ফজলুল করিম সেলিম চেয়ারম্যান ও কাজী ইকবাল হোসেন সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ২০০৩ সালে পঞ্চম কংগ্রেসে এডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক চেয়ারম্যান ও মীর্জা আজম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ২০০৯ সালে এডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মনোনীত হলে মোহাম্মদ ওমর ফারুক চৌধুরী ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এর দায়িত্ব পালন করেন। ২০১২ সালে অনুষ্ঠিত ষষ্ঠ জাতীয় কংগ্রেসে মোহাম্মদ ওমর ফারুক চৌধুরী চেয়ারম্যান ও মোঃ হারুনুর রশীদ সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়। ২০১৯ সালের ২৩ নভেম্বর বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের সপ্তম জাতীয় কংগ্রেসে চেয়ারম্যান পদে শেখ মনির জৈষ্ঠ্যপুত্র শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক পদে আলহাজ্ব মো. মাইনুল হোসেন খান নিখিল নির্বাচিত হন।

 

২০১৯ এর ২৩ নভেম্বর - বর্তমান

 

টিম যুবলীগ


২০১৯ সালের ২৩ নভেম্বর বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের সপ্তম জাতীয় কংগ্রেসে চেয়ারম্যান পদে শেখ মনির জৈষ্ঠ্যপুত্র শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক পদে আলহাজ্ব মো. মাইনুল হোসেন খান নিখিল নির্বাচিত হন। নির্বাচিত হওয়ার পরে বৈশ্বিক ও বর্তমান বাস্তবতার আলোকে গঠিত যুবলীগের কার্যনির্বাহী কমিটি ও কেন্দ্রীয় কমিটিতে বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার যুব সম্প্রদায়কে অন্তর্ভুক্ত করে নতুন মাত্রা যোগ করেন, যা সর্বমহলে প্রশংসিত ও নন্দিত হয়েছে। আন্দোলন সংগ্রামের পরীক্ষিত নেতৃত্ব থেকে শুরু করে সমাজের সব শ্রেণি ও পেশার মেধাবী ও দক্ষ যুবকদের নেতৃত্বে গঠিত হয়েছে বর্তমান কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটি ও কেন্দ্রীয় কমিটি।

 

করোনা মহামারি ও মানবিক যুবলীগ


বৈশ্বিক করোনা মহামারির প্রবল ঢেউ বাংলাদেশেও আসে। এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে মানুষের জীবন রক্ষার্থে ২০২০ সালের ২৬ মার্চ দেশে অঘোষিত লকডাউন শুরু হলে যুবলীগ যুবলীগ একের পর এক প্রশংশনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করে। বৈশ্বিক মহামারি করোনা সংকটে দেশব্যাপী মাস্ক, হ্যান্ডস্যানিটাইজার বিতরণ, মাইকিং, কর্মহীন ঘরবন্দি মানুষের মাঝে খাদ্য ও অর্থ সহায়তা, ফ্রি টেলিহেলথ সার্ভিস, ফ্রি অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস, করোনা রোগী বহন, করোনায় মৃত লাশের গোসল, জানাজা, দাফন ও সৎকার, কৃষকের ধান কেটে মাড়াই করে ঘরে তুলে দেয়া, বৃক্ষরোপণ ও বিতরণ, ঘূর্ণিঝড় আম্ফান, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় মানুষের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণসহ নানা মানবিক কর্মসূচি পালন করেছে যুবলীগ। ঐ সময়ে যুবলীগ প্রায় ৪৪ লক্ষ অসহায় কর্মহীন মানুষের মাঝে খাদ্য ও ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেছিল। করোনার প্রথম পর্যায়ে যুবলীগ যেভাবে অসহায় মানুষের পাশে থেকে কাজ করেছিল তা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীসহ সর্বমহলে সমাদৃত হয়েছিল।


করোনার দ্বিতীয় পর্যায়ে গত ২০২১ এর ৫ মে হতে সরকার লকডাউন ঘোষণা করার পরে আবারো জনগণের পাশে দাঁড়ায় মানবিক যুবলীগ। এরই ধারাবাহিতকায় করোনার দ্বিতীয় ধাপে ২৬ লাখেরও বেশি মানুষ যুবলীগের ত্রাণ সহায়তা পেয়েছে।

 

আশ্রয় কর্মসূচি


যুবলীগের অন্যতম মানবিক প্রকল্প হলো আশ্রয়হীনের গৃহের ব্যবস্থা করে দেওয়া। জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে যুবলীগের ঘোষিত কর্মসূচির মধ্যে অন্যতম কর্মসূচি হলো ‘আশ্রয় কর্মসূচি’। সংগঠন হিসেবে এই প্রথম যুবলীগ একমাত্র সংগঠন যে নিজস্ব অর্থায়নে অসহায় ও গৃহহীনদের মাঝে গৃহনির্মাণ করে হস্তান্তর করেছে। যুবলীগের আশ্রয় কর্মসূচির মূলে ছিল মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিরন্তর উৎসাহ আর অনুপ্রেরণা।

 

পরিবেশ রক্ষায় যুবলীগ


মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে যুবলীগের উদ্যোগে সপ্তাহব্যাপী গৃহীত কর্মসূচির অংশ হিসেবে ২০২১ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন অভিযান কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। এর নান্দনিক কর্মসূচি ইতোমধ্যেই প্রশংসিত হয়েছে।

 

মুজিববর্ষের কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে ‘গাছ লাগাই, জীবন বাঁচাই’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে সারা দেশে বৃক্ষরোপন কর্মসূচি পালন করে যুবলীগ। ফলজ, বনজ এবং ঔষধি– এই তিন রকম বৃক্ষরোপণে অংশ নিচ্ছে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। এই নির্দেশনার পর মহানগর, জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন, ওয়ার্ড পর্যায়সহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা সংগঠনের পাশাপাশি ব্যক্তিগত উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালন করে যাচ্ছেন।


২০২২ এর জুন মাসের ২০ তারিখ থেকে জুলাই মাসের ১৬ তারিখ পর্যন্ত নেতা-কর্মীরা দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রথম ধাপে প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার ৩২ টি বৃক্ষরোপণ করেছে এবং দ্বিতীয় ধাপে জুলাই মাসের ১৬ তারিখ থেকে আগস্ট মাসের ২৫ তারিখ পর্যন্ত মোট ৪ লাখ ৬৬ হাজার ৯০৬টি বৃক্ষরোপণ করা হয়েছে।

 

ধর্মান্ধচক্রের বিরুদ্ধে যুবলীগ


গত শারদীয় দূর্গাপুজায় ধর্মান্ধচক্র একটি মিথ্যা বিষয়কে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে ব্যাপক ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। সারাদেশে সাম্প্রাদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার অপচেষ্টা করতে থাকে, ঠিক তখনই শান্তি ও সম্প্রীতি র‌্যালী কর্মসূচি দিয়ে সারাদেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় মাঠে নামে যুবলীগ। মৌলবাদ বিরোধী অপশক্তি রুখতে যুবলীগ ইতিহাসের সেরা সামাজিক আন্দোলন সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি শান্তি সমাবেশ ও র‌্যালীর সূচনা করে বাংলাদেশের অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে বিশ্ব দরবারে জানান দিয়েছে। এর আগেও হেফাজতের বিভিন্ন সময় তান্ডব মোকাবিলায় সামনের সারিতে রাজপথে থেকে নেৃত্বত্ব দেয় যুবলীগ।

 

রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অপ্রতিরোধ্য বাংলাদেশ বিনির্মাণে সহযোগী যুবলীগ


রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অপ্রতিরোধ্য বাংলাদেশ বিনির্মাণে সহযোগী হিসেবে যুবলীগ বিভিন্ন মাত্রায় কাজ করছে। রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার অর্জন সমূহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও বিভিন্ন সভা সমাবেশ মিছিলের মাধ্যমে দলীয় নেতাকর্মী ও তৃণমূল জনসাধারণকে পৌঁছে দিচ্ছে যুবলীগ।

 

একই সাথে স্বাধীনতা বিরোধী জামাত বিএনপি'র নাশকতা মূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে যুবলীগের নেতাকর্মীরা রাজপথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এ প্রসঙ্গে বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে রংপুর জেলা যুবলীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির ভাষণে বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ বলেন,

 

‘আগামী ১১ নভেম্বর যুবলীগের সুবর্ণজয়ন্তীর মহাসমাবেশের পর পুরো বাংলাদেশ থাকবে যুবলীগের দখলে। প্রতিটি অলিগলি দখল করে রাখবে নেতাকর্মীরা। তখন বুঝবে কত ধানে কত চাল। যুবলীগ অতন্দ্র প্রহরীর মতো আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়ন ও গণতন্ত্রের ধারা সর্বশক্তি দিয়ে রাজপথে থেকে অব্যাহত রাখবে।’

comment / reply_from