যুবলীগ সংবাদ :

শোকাবহ আগস্ট মাসব্যাপী বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের কর্মসূচী যুবজাগরণ পাঠাগার ও বিক্রয়কেন্দ্র উদ্বোধন বঙ্গমাতাকে নিয়ে যুবলীগের স্মারকগ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে রুখে দাড়াতে হবে : যুবলীগ চেয়ারম্যান জঙ্গিমুক্ত দেশ গড়তে যুবলীগের শপথ রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার কারামুক্তি দিবস পালিত শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে যুবলীগের সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচি স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে যুবলীগের শ্রদ্ধাঞ্জলী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষ্যে যুবলীগের শ্রদ্ধাঞ্জলী বইমেলায় যুবলীগের নান্দনিক আয়োজন যুবলীগ চেয়ারম্যান সম্পাদিত বইয়ের মোড়ক উন্মোচন আওয়ামী যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শেখ ফজলুল হক মনির ৭৭ তম জন্মদিন পালিত। পৌর নির্বাচনী প্রচারণায় যুবলীগের কমিটি গঠন মোমবাতি জ্বালিয়ে শহীদদের প্রতি যুবলীগের শ্রদ্ধা মালয়েশিয়ায় যুবলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার অগ্রযাত্রার মিছিলে তারুণ্যের প্রেরণা আর সাহসের দিন শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস---যুবলীগ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ওমর ফারুক চৌধুরী
সাংঘর্ষিক কর্মকাণ্ড নয়, জনমত সৃষ্টিই আমাদের উদ্দেশ্য : ওমর ফারুক চৌধুরী
03/03/2014 12:44 AM

১৮ নভেম্বর ২০১২

সাংঘর্ষিক কর্মকাণ্ড নয়, জনমত সৃষ্টিই আমাদের উদ্দেশ্য : ওমর ফারুক চৌধুরী

বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ওমর ফারুক চৌধুরী বলেছেন, স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াত-শিবির চক্র দেশের বিভিন্ন স্থানে সন্ত্রাস-নৈরাজ্য-পুলিশের ওপর আক্রমণ ও জনগণের জানমালের ক্ষতি করছে। তারা এটা করছে বিশেষ উদ্দেশ্যে। এটি হচ্ছে, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকাজ এখন প্রায় শেষ পর্যায়ে। তাই তাদের রক্ষা করার জন্যই দেশে অস্থিতিশীল অবস্থা সৃষ্টির চেষ্টা করছে তারা। কিন্তু তাতে কি মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচার বন্ধ হবে? এ বিচার বন্ধ হবে না বা বন্ধ করার ক্ষমতা কারও নেই। তাদের সৃষ্ট চোরাগুপ্তা হামলা-জঙ্গি-সন্ত্রাসের প্রতিবাদ আজ সর্বস্তরের মানুষের মুখে শোনা যায়। তাদের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জ্ঞাপন করছে সাধারণ মানুষও। দৈনিক আমাদের অর্থনীতির সঙ্গে বিশেষ সাক্ষাৎকারে ‘একের পর এক জামায়াতের তাণ্ডব কেন’ এর ব্যাখ্যা দিয়ে খোলামেলাভাবে এসব কথা বলেন তিনি। ওমর ফারুক চৌধুরী বলেন, আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য যুদ্ধাপরাধের বিচার প্রক্রিয়াকে নস্যাৎ করার লক্ষ্যে জামায়াত-শিবির প্রতিক্রিয়াশীল চক্র সারাদেশে সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করার চেষ্টা করছে। এটাই তাদের মুখ্য উদ্দেশ্য। যুবসমাজ সম্পর্কে নিজের ও তার সংগঠনের চিন্তাভাবনা প্রসঙ্গে ওমর ফারুক বলেন, সাংঘর্ষিক কর্মকাণ্ড পরিহার করে জনমত সৃষ্টি করা আমাদের উদ্দেশ্য। নতুন প্রজš§কে উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্যে যুব সংগ্রাম পরিষদ কর্মসূচি ঘোষণা করবে। এ কর্মসূচিতে মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের সব রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনকে অংশ নিতে আমন্ত্রণ জানানো হবে। এসব সংগঠনের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা শেষে চূড়ান্ত কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। যুবশক্তিকে বলীয়ান করার লক্ষ্য সামনে রেখে ওমর ফারুক বলেন, রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার দূরদর্শিতার ফসল আজকের গার্মেন্ট শিল্পসহ বিভিন্ন শিল্প-কারখানার খাত। রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার দর্শন জনগণের ক্ষমতায়ন। এই দর্শনের ভিত্তিতে অর্থনীতির অগ্রযাত্রাকে এগিয়ে নিতে সব ধরনের সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছেন তিনি। কিন্তু এ দেশে অস্থিতিশীল অবস্থা সৃষ্টি করে এ খাতের অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করা হচ্ছে। আমাদের অর্থনীতির অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করতে সন্ত্রাসী তাণ্ডব চালানো হচ্ছে। 

ওমর ফারুক চৌধুরী বলেন, এটা বুঝতে বাকি নেই, বিএনপি-জামায়াত এখন একে অপরের পরিপূরক। জাতির সামনে এ সত্য প্রমাণিত হয়েছে। জামায়াত-শিবিরের কর্মকাণ্ডের দায়ভার বিএনপিকেই নিতে হবে। এখনই যদি জামায়াত-শিবিরের নৈরাজ্যকর কার্যকলাপের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো না যায়, তবে দেশ মৌলবাদী, জঙ্গিবাদী ও তালেবানি রাষ্ট্রে পরিণত হবে। সুতরাং আমরা তা কোনোভাবেই হতে দেব না। যুবসমাজ এ অপকর্ম রুখে দেবে। 

জামায়াত-শিবির বিভিন্নভাবে ধর্মকে ব্যবহার করছে। ধর্মপ্রাণ মানুষের সেন্টিমেন্টকে ব্যবহার করছে। কেউ বলে, জামায়াত-শিবির ধর্মব্যবসায়ী। আপনার বক্তব্য কী? এর জবাবে ওমর ফারুক চৌধুরী বলেন, জামায়াত-শিবির নিজেদের চরিত্রের মাধ্যমেই প্রমাণ করেছে তারা খুবই ভয়ঙ্কর। ভালো নিয়তে খারাপ জিনিস প্রতিষ্ঠা করলে যেমন অপরাধ হয়; ঠিক তেমনি খারাপ নিয়তে মসজিদ প্রতিষ্ঠা করলেও তা অপরাধ হিসেবে পরিগণিত হবে। কেউ যদি ‘ইসলাম’কে সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনার স্বার্থে ব্যবহার করে তাও হবে তার জঘন্য অপরাধ। কেননা ইসলাম কখনও জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদকে প্রশ্রয় বা সমর্থন দেয় না। যারা ইসলামের নাম দিয়ে সন্ত্রাস ও মানবতাবিরোধী কার্যক্রম পরিচালনা করে তারা মুনাফিক। যারা মসজিদে নববীর বিপরীতে ইসলাম ও মুসলমানদের ক্ষতিসাধনকল্পে মুসলমানদের মধ্যে পারস্পরিক পার্থক্য সৃষ্টি করার লক্ষ্যে মদিনার কুবা নামক স্থানে ‘মসজিদে জেরার’ নির্মাণ করছিল; পবিত্র কোরআনে যে মসজিদকে ‘ক্ষতি সাধনকারী মসজিদ হিসেবে’ আখ্যায়িত করা হয়েছে, ওই মসজিদ মুনাফিকরা রাসুলকে (সা.) দিয়েই উদ্বোধন করাতে চেয়েছিল। কিন্তু আল্লাহ আয়াত নাজিল করে ওই ক্ষতিকর মসজিদ নির্মাণে উদ্দেশ্য জানিয়ে বল্লেন, হে রাসুল, আপনি তার পাশ দিয়েও যাবেন না। আল্লাহর রাসুলের নির্দেশে ওই মসজিদ ভেঙে ফেলা হলো। পৃথিবীর এক ঘৃণিত স্থান হিসেবে আজও তা বিখ্যাত, এখানে কোনো মানুষ এমনকি কোনো পাখিও ঘর বাঁধে না।ওমর ফারুক চৌধুরী আরও বলেন, আল্লাহ বলেছেন, ‘যারা জিদের বশে (ক্ষতিসাধনকল্পে) মসজিদ নির্মাণ করেছে, কুফরির তাড়নায়, মুমিনদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে এবং ওই লোকের জন্য ঘাঁটিস্বরূপ যা পূর্ব থেকে আল্লাহ ও তার রসুলের সঙ্গে যুদ্ধ করে আসছে। অথচ তারা (মুনাফিকরা) শপথ করে বলবে যে, আমরা (এই মসজিদটি নির্মাণ করেছি) শুধু সওয়াব, কল্যাণের আসায় পক্ষান্তরে আল্লাহ সাক্ষী, তারা (মুনাফিকরা) সবাই মিথ্যুক। নবী আপনি কখনও এমন মসজিদে (নামাজে) দাঁড়াবেন না।’

ওমর ফারুক বলেন, ‘ইসলামকে যারা হীনস্বার্থে ব্যবহার করে তাদের জন্য পবিত্র কোরআনের এ আয়াতের বিশ্লেষণ : জিদের বশে বা প্রতিযোগিতার জন্য মসজিদ নির্মাণ করলে নির্মাণকারী তার সওয়াব তো পাবেই না বরং কবিরাহ গুনার অধিকারী হবে। যারা মসজিদকে অসৎ উদ্দেশ্যে ব্যবহার করে সমাজে অশান্তির, ষড়যন্ত্র, বিশৃঙ্খলার জন্য বৈঠক করে তারা মদিনার ওই মুনাফিকদের মতোই।’ পবিত্র কোরআন শরিফের আয়াত উচ্চারণের মাধ্যমে এর তর্জমা করে ওমর ফারুক বলেন, সমাজে যারা জিদের বশে মসজিদ নির্মাণ করে তাদের সওয়াব তো হয়ই না বরং কবিরাহ গুনাহ হয়। যারা মসজিদকে অসৎ ও খারাপ উদ্দেশ্যে ব্যবহার করে অর্থাৎ মসজিদে বসে বিশৃঙ্খলা, নৈরাজ্য ইত্যাদি সৃষ্টির পরিকল্পনা ও প্রোগ্রাম করে তাদের স্থান নেই। যারা ভালো জিনিসকে অসৎ উদ্দেশ্য সাধনের হাতিয়ার বানায়, যেমন ইসলামকে যারা নিজেদের স্বার্থ উদ্ধারে ব্যবহার করে, আসলে ইসলাম প্রতিষ্ঠা করা তাদের উদ্দেশ্য নয়; যেমন মদিনার মুনাফিকরা নামাজ পড়ার নাম দিয়ে মসজিদে জিরার নির্মাণ করেছিল তাদের অসৎ উদ্দেশ্য সাধনের জন্য। জামায়াত-শিবিরের দেশব্যাপী তাণ্ডবের প্রতিবাদে আওয়ামী যুবলীগের কর্মসূচি সম্পর্কে ওমর ফারুক বলেন, জামায়াত-শিবির দেশে সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করার চেষ্টা করছে। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের হুঁশিয়ারি উচ্চারণ বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ এমন সন্ত্রাস, বিশৃঙ্খলা ও রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে জোরালো প্রতিবাদ জানাচ্ছে। এর পাশাপাশি আপামর জনগণ, বিশেষ করে যুবসমাজকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানাচ্ছে। যুবলীগ কোনোভাবেই স্বাধীনতাবিরোধী চক্রের যেকোনো ধরনের ষড়যন্ত্রকে সফল হতে দেবে না। যুবলীগ দৃঢ়তার সঙ্গে ঘোষণা করছে, সব শক্তি দিয়ে আমরা জনগণের পাশে দাঁড়াব এবং দেশে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সরকার ও প্রশাসনকে সর্বাÍক সহযোগিতা দেব। তিনি বলেন, জামায়াত-শিবির যে তাণ্ডব চালাচ্ছে এতে বিএনপিই প্রকাশ্য ইন্ধন দিচ্ছে। তারা লাশের জন্য চোরাগুপ্তা হামলা চালানো শুরু করেছে। কিন্তু তাদের ষড়যন্ত্র সফল হবে না। এর সঙ্গে রাজনৈতিক কর্মসূচির সম্পর্ক নেই। এটা তাদের কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, এটা স্রেফ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড। যুবনেতা ওমর ফারুক বলেন, জামায়াত-শিবিরের তাণ্ডবে পুলিশ ও আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যই আক্রান্ত হচ্ছে না। সবাই ওদের হামলার শিকার হচ্ছেন। আইনমন্ত্রীর গাড়িবহরে তারা হামলা করেছে, এই আক্রমণের উদ্দেশ্যও ছিল এক। যুবলীগ নেতাদের ওপর হামলা করেছে এটাও তাদের পরিকল্পিত। পুলিশের ওপর সশস্ত্র হামলা যুদ্ধাপরাধীর বিচার বন্ধ করতে বিএনপি পরিকল্পিতভাবে জামাত-শিবিরকে মাঠে নামিয়েছে।

আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়েই আওয়ামী লীগের জন্ম হয়েছে উল্লেখ করে ওমর ফারুক চৌধুরী বলেন, যুবলীগকে আন্দোলনের ভয় দেখিয়ে লাভ নেই। বিচার এ সরকার শেষ করবে। ভয় দেখিয়ে, সন্ত্রাস সৃষ্টি করে অথবা অন্য কোনোভাবে এই বিচার বাধাগ্রস্ত সম্ভব নয়।

রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার তথ্যকণিকা

পরিচিতি
ভাষণ
বার্তা

চেয়ারম্যান ডেস্ক

পরিচিতি
ভাষণ
বার্তা

সাধারণ সম্পাদক ডেস্ক

পরিচিতি
ভাষণ
বার্তা

যুবলীগ প্রকাশনা