যুবলীগ সংবাদ :

শোকাবহ আগস্ট মাসব্যাপী বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের কর্মসূচী যুবজাগরণ পাঠাগার ও বিক্রয়কেন্দ্র উদ্বোধন বঙ্গমাতাকে নিয়ে যুবলীগের স্মারকগ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে রুখে দাড়াতে হবে : যুবলীগ চেয়ারম্যান জঙ্গিমুক্ত দেশ গড়তে যুবলীগের শপথ রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার কারামুক্তি দিবস পালিত শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে যুবলীগের সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচি স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে যুবলীগের শ্রদ্ধাঞ্জলী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষ্যে যুবলীগের শ্রদ্ধাঞ্জলী বইমেলায় যুবলীগের নান্দনিক আয়োজন যুবলীগ চেয়ারম্যান সম্পাদিত বইয়ের মোড়ক উন্মোচন আওয়ামী যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শেখ ফজলুল হক মনির ৭৭ তম জন্মদিন পালিত। পৌর নির্বাচনী প্রচারণায় যুবলীগের কমিটি গঠন মোমবাতি জ্বালিয়ে শহীদদের প্রতি যুবলীগের শ্রদ্ধা মালয়েশিয়ায় যুবলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার অগ্রযাত্রার মিছিলে তারুণ্যের প্রেরণা আর সাহসের দিন শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস---যুবলীগ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ওমর ফারুক চৌধুরী
কেন এই গ্রন্থ ?
03/03/2014 12:42 AM

০১ নভেম্বর, ২০১২


কেন এই গ্রন্থ ?    

যেকোনো রাজনীতি বিকশিত হয় একটি চিন্তা, আদর্শ এবং দর্শনের ভিত্তিতে। বাংলাদেশে রাজনীতিতে আদর্শিক চিন্তা-চেতনার বিকাশ স্বাধীনতা-উত্তর সময়ে তেমন হয়নি বললেই চলে। ’৭৫-পরবর্তী রাজনীতি প্রায়ই চলতি ইস্যু এবং আবেগ-উচ্ছ্বাসনির্ভর হয়ে পড়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যেও আদর্শ ও নীতির চর্চা ক্রমশ হ্রাস পেতে থাকে। ফলে তরুণ ও যুব সমাজ ক্রমশ রাজনীতিবিমুখ হয়ে পড়তে থাকে। জাতির পিতাকে হত্যার পর রাজনীতিকে ‘ডিফিকাল্ট’ করার অপচেষ্টা চলেছে। এ কারণেই আজ অধিকাংশ তরুণ-যুবক রাজনীতিবিমুখ। রাজনীতি মানেই নতুন প্রজন্ম মনে করে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, অবৈধ পন্থায় আখের গুছিয়ে নেওয়া।  

আমি রাজনীতি করি আদর্শের জন্য। জাতির পিতার আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে আমি রাজনীতি করেছি। কিন্তু রাজনীতিকে কলুষিত করার পর আমি নিজেও দেখলাম রাজনীতির পরিচয় দেওয়া খুবই পীড়াদায়ক। রাজনীতি করি শুনলেই ভ্রু কুঁচকে অনেকে তাকায়। আমার নিজের মধ্যেই এ নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাজ করেছে। এ সময় আমি অনেকগুলো প্রশ্নের উত্তর খুঁজেছি

  ১. রাজনীতি কী?  
  ২. রাজনীতি চর্চায় আদর্শের গুরুত্ব কতখানি?  
  ৩. আমার রাজনীতির আদর্শ কী?  

১৯৭৫-এর ১৫ আগস্ট বাংলাদেশের রাজনীতিতে যে আঘাত আসে, সেই আঘাত ছিন্নভিন্ন করে আদর্শিক চেতনার রাজনৈতিক ধারা। আমি যখন এ প্রশ্নের উত্তর হাতড়ে বেড়াচ্ছি, ঠিক তখনই ১৯৮১-র ১৭ মে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব গ্রহণ করে প্রিয় স্বদেশে আসেন জাতির পিতার কন্যা, রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা। আমার তরুণ প্রাণ আশায় উদ্বেলিত হয়। আমি আমার প্রশ্নের উত্তর খুঁজি।  

১৯৮১-র ১৭ মে থেকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি গুণগত পরিবর্তন লক্ষ্য করি। স্বদেশে ফিরে তিনি বলেন, ‘আমি জনগণের অধিকার চাই।’ জাতির পিতার হত্যার বিচার প্রসঙ্গে তিনি বলেন ‘জনগণের কাছে আমি এর বিচার চাই।’ এভাবে প্রতিটি ক্ষেত্রে তিনি জনগণকে ‘মুখ্য’ হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। তিনি তার নিজের কথা বলছেন না, দলের কথা বলছেন না, বলছেন জনগণের কথা।  

আমি আমার প্রথম প্রশ্নের উত্তর পেলাম ‘রাজনীতি হলো জনগণের জন্য কল্যাণ করা।’  

শেখ হাসিনার রাজনীতিতে উজ্জীবিত হয়ে আমি দেখলাম, তার রাজনীতি আদর্শভিত্তিক। তিনি আদর্শের প্রশ্নে কোনো ছাড় দেন না। ১৯৮২-এর ২৪ মার্চ তৎকালীন সেনাপ্রধান এরশাদ ক্ষমতা দখল করবেন। আওয়ামী লীগ তখন ক্ষমতার এ পালাবদলের অবস্থানগত সুবিধা নিতে পারত। কিন্তু তিনি অগণতান্ত্রিক কোনো শক্তিকে মেনে নিলেন না। তিনি বললেন, ‘জনগণের অধিকার কোনো অগণতান্ত্রিক শক্তির কাছে জিম্মি থাকতে পারে না।’ যেখানেই অগণতান্ত্রিক শক্তির উপস্থিতি, সেখানেই শেখ হাসিনার প্রতিবাদ। তাই আমরা দেখি ২০০০ সালে কমনওয়েলথ শীর্ষ সম্মেলনে তিনি প্রকাশ্যে তৎকালীন পাকিস্তানি স্বৈরশাসক পারভেজ মোশারফের সঙ্গে সাক্ষাৎ প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা প্রকাশ্যেই বলেন, আমি কোনো স্বৈরশাসকের সঙ্গে সাক্ষাতে আগ্রহী নই।  

১৯৯১ সালের বিতর্কিত নির্বাচনে, বিরোধী দলের আসনে বসেও তিনি সংসদীয় গণতন্ত্রের জন্য অবিচল থাকেন এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ দলকে সংসদীয় গণতন্ত্র মানতে বাধ্য করেন।  

আমি আমার দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তর পাই, রাজনীতিতে মূল কথা হলো আদর্শ। একটি নীতি এবং আদর্শই রাজনীতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কাজেই আমি আমার দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তরও পাই।  

শেখ হাসিনার রাজনীতি আমি অনুধাবন করার চেষ্টা করি। আমি লক্ষ্য করি তার রাজনীতির মূল আদর্শ হলো ‘জনগণের ক্ষমতায়ন’। আপনি মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথাই বলুন আর অসাম্প্রদায়িক চেতনার কথাই বলুন।

এসব   চিন্তা-দর্শনের কেন্দ্রে কিন্তু জনগণ। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্যই বাঙালি জাতি মহান মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল জাতির পিতার নেতৃত্বে। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্যই অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের রূপকল্প প্রতিষ্ঠা হয়েছিল ’৭২-এর সংবিধানে। আর জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা, জনগণের ক্ষমতায়নের জন্য প্রয়োজন স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা। আমি লক্ষ্য করলাম, শেখ হাসিনা তার প্রতিটি সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নের উত্তর দেন। বাংলাদেশে তা নয়ই, বিশ্বের অন্য কোনো নেতা-নেত্রী এভাবে উত্তর দেন না। তিনি সাধারণ মানুষের জন্য ফোন ই-মেইল উন্মোক্ত করেছেন। বাংলাদেশের যেকোনো নাগরিক তাকে ফোন করতে পারেন, তার সমস্যার কথা বলতে পারেন। এ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা ‘জনগণের ক্ষমতায়ন’-এর জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।  

অতএব, আমি তৃতীয় প্রশ্নের উত্তর পেয়ে গেলাম।  

বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন নামজাদা বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিদর্শনে গেলে সেখানকার ছাত্র-শিক্ষক ও অন্যান্য গুণীজনের সমাবেশে স্বচ্ছন্দে প্রশ্নের সাবলীল উত্তর দেন এটি কজন রাষ্ট্রনায়কের আছে?  

কারগিল ইস্যুতে যখন উপমহাদেশের দুই পারমাণবিক শক্তি নিশ্চিত যুদ্ধের মুখোমুখি ঠিক সেসময় বিশ্বনেত্রী শেখ হাসিনা উপমহাদেশের বিপর্যয় ঠেকাতে দুই দেশের সরকার প্রধানকে টেলিফোন করেন এবং দুই দেশ সফর করেন। তার এ উদ্যোগ দুদেশের অবশ্যম্ভাবী যুদ্ধ ঠেকাতে নিয়ামক ভূমিকা রাখে। সাম্প্রতিক সময়ে এরকম উদ্যোগী ও সক্ষম রাষ্ট্রনায়ককে আমরা জানি বা চিনি?  

রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার রাজনীতি হলো সুবিধাভোগী উচ্ছিষ্টভোগীদের কাছ থেকে রাজনীতিকে কল্যাণকামী ধারায় ফিরিয়ে আনার প্রয়াশ। দীর্ঘদিন তার রাজনীতি পর্যবেক্ষণ করে ২০০৯ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের দায়িত্ব গ্রহণ করে সিদ্ধান্ত নিই রাষ্ট্রনায়ক বিশ্বনেত্রীর ওপর গবেষণা করার।  

বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই আমি সংগঠনটির আদর্শিক চেতনা এবং এর বিকাশের ব্যাপারে উদ্যোগী হই। সে লক্ষ্যেই প্রথমে আমাদের রাজনীতির শেকড় অনুসন্ধানের কাজ করি। আর সে কারণেই, রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার চিন্তা, তার রাজনৈতিক কর্ম, তার দর্শন বিশ্লেষণের চেষ্টা করি। আমি সবসময় পেশাদারিত্ব এবং উপযুক্ত ব্যক্তিদের দিয়ে কাজ করানোর পক্ষপাতী। এ লক্ষ্যেই শেখ হাসিনার রাজনীতি, তার চিন্তা-ভাবনাগুলোকে ধারণের জন্য একটি পেশাদার গবেষক দল তৈরি করা হয়। আমার নেতৃত্বে এই গবেষক দলে ছিলেন যুবলীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক জাতীয় সংসদের হুইপ, বর্তমান বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কার্যকরী কমিটির সদস্য মির্জা আজম এমপি, যুবলীগের সাবেক চেয়ারম্যান এবং স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক এমপি। বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সভাপতি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান ড. আবুল বারাকাত, তথ্য কমিশনার ড. সাদেকা হালিম, বিশিষ্ট গণমাধ্যম বিশেষজ্ঞ সৈয়দ বোরহান কবীর, তরুণ গবেষক ইশতিয়াক আহমেদ চৌধুরী।  

এই গবেষক দলটি দীর্ঘ প্রায় এক বছর ধরে শেখ হাসিনার রাজনীতির ওপর গবেষণা করে। এই গবেষণার ফলাফল ছিল ঐতিহাসিক, তাৎপর্যপূর্ণ এবং অসাধারণ। এ গবেষণায় আমরা রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার রাজনীতি বিশ্লেষণ করে দেখি যে, জাতির পিতার রাজনৈতিক আদর্শে বড় হলেও শেখ হাসিনাকে কখনই ইন্দিরা গান্ধি কিংবা বেনজীরের মতো ভবিষ্যতের নেত্রী হিসেবে গড়ে তোলা হয়নি। শেখ হাসিনা বিকশিত হয়েছেন তার আপন মহিমায় চারপাশের পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতির মধ্যে। ১৯৭৫ এর ১৫ আগস্ট জাতির পিতার দুর্ভাগ্যজনক হত্যাকাণ্ডের পর শেখ হাসিনার মূল রাজনৈতিক জীবনের সূত্রপাত। মাত্র ৩২ বছর বয়সে তিনি দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দলের নেতৃত্ব নেন। যেখানে সব কিছু তাকে দ্রুত আয়ত্ত করতে হয়েছে সম্পূর্ণ প্রতিকূল পরিস্থিতিতে। আমরা গবেষণায়, তার জীবন ও রাজনীতি বিশ্লেষণ করে পাই যে, তার রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে বড় পাথেয় ও শক্তি হলো জনগণ। রাজনীতিতে শেখ হাসিনার এক অভূতপূর্ব দিক হলোÑ তিনি জনগণের হৃদস্পন্দন শুনতে পান।  

জনগণের চাওয়াপাওয়া বিমূর্ত অনুভূতিগুলো তাকে সহজেই স্পর্শ করে। আর সে কারণেই যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণে তিনি ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠীর স্বার্থের চেয়ে জনগণের স্বার্থকে গুরুত্ব দেন। আমরা দেখেছি, তিনি সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় জনগণের অংশগ্রহণ এবং জনগণের স্পষ্ট মতামতের এক দৃঢ় প্রবক্তা। ১৯৮১ সালে স্বৈরাচারী শাসনের কবলে নিষ্পেষিত জাতিকে জাগাতে তাই তিনি অস্ত্র নয়, জনজাগরণের পথ বেছে নেন। তার রাজনীতির বিষয়টি হলো এরকমÑ জনগণকে সচেতন করো, তাদের জাগাও, তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের মূল নিয়ামক করো তাহলেই শান্তি আসবে, মানুষের উন্নতি হবে। তিনি হয়তো দর্শন আকারে কাজটি করেননি, কিন্তু তার প্রতিটি কাজের এবং চেতনায় মূল বিষয় হলো ‘জনগণ’। এ কারণেই আমরা শেখ হাসিনার রাজনৈতিক দর্শনের নাম দিয়েছি ‘জগণের ক্ষমতায়ন’।  

এই দর্শনটিকে একটি অবয়ব দেওয়ার পর আমরা প্রথমে ইংল্যান্ডের অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন করি। সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং এই দর্শনের প্রবক্তা শেখ হাসিনা। এরই ধারাবাহিকতায় আমরা সুইডেনের স্টকহোম ইউনিভার্সিটি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি, জাপানের ওয়াসেডা ইউনিভার্সিটিতে আন্তর্জাতিক সম্মেলন ও সেমিনার করি। এই তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ে আমরা শেখ হাসিনার রাজনৈতিক দর্শন, শিক্ষাবিদ, গবেষক এবং সুশীল সমাজের কাছে উপস্থাপন করি।  

এখানে প্রশ্নোত্তর পর্বে উঠে আসে এই দর্শনের বিভিন্ন দিক।এরপর, গবেষক দল, প্রাপ্ত জিজ্ঞাসা ও মতামতের আলোকে রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার দর্শনের একটি সংক্ষিপ্ত সার প্রস্তুত করি। এ সংক্ষিপ্ত সার নিয়ে আমরা যাই নেদারল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি অব এপ্লায়েড সায়েন্সে, অস্ট্রেলিয়ার সিডনি ইউনিভার্সিটিতে এবং ভারতের শান্তি নিকেতনে। এ তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়েই শেখ হাসিনার শান্তির দর্শন নিয়ে বক্তব্য রাখেন স্ব স্ব দেশের বরেণ্য রাজনীতিক, বুদ্ধিজীবী, শিক্ষক, সাংবাদিক এবং বিভিন্ন পেশাজীবীরা। এসময় আমরা একটি অনবদ্য জিনিস প্রত্যক্ষ করি। তা হলো আমরা যে বিশ্ববিদ্যালয়েই গেছি, সেখানেই এই দর্শনের ব্যাপারে অভূতপূর্ব সাড়া। প্রত্যেকেই বলেছেন এই দর্শনই মানবতার মুক্তির পথ। কি উন্নত, কি উন্নয়নশীলÑ সব দেশের জন্যই এ দর্শন হতে পারে মানুষের মুক্তি ও শান্তির পাথেয়।  

সকলের মতামতের ভিত্তিতে আমরা লন্ডনে, ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনে একটি আন্তর্জাতিক কনভেনশনে এ দর্শনের ওপর একটি আন্তর্জাতিক প্রস্তাবনা উপস্থাপন করি। ১৭টি দেশের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে এ প্রস্তাবনা সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হয়।  

এরপর বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের পক্ষ থেকে এই প্রস্তাবনা বাস্তবায়নের জন্য আমরা মার্কিন কংগ্রেসের ডেমোক্রেট দলীয় প্রধান ন্যান্সি পিলোসী, প্রবীণ কংগ্রেসপারসন শিলা জ্যাকসনসহ একাধিক কংগ্রেসম্যানের সঙ্গে দেখা করি। তারা প্রত্যেকেই এই দর্শন বিশ্বের চলমান সংকট নিরসনের পাথেয় হিসেবে বর্ণনা করেন। ইউনিসেফ, ইউএনডিপি, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা, বিশ্ব খাদ্য সংস্থা, ভারতের ক্ষমতাসীন কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধি, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ইউরোপীয় কমিশনের কাছে এ দর্শনের কপি হস্তান্তর করা হয়। এ দর্শন আমরা উপস্থাপন করি জাতিসংঘের ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল আশা রোজ মিগারিওর কাছে। তিনি দর্শনকে আগামী বিশ্বের চালিকাশক্তি এবং জাতিসংঘের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশক হিসেবে চিহ্নিত করেন। এ দর্শন তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে জাতিসংঘে উপস্থাপনের অনুরোধ করেন।  

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের কাছে ২০১১-এর আগস্টে আমরা এ দর্শন আনুষ্ঠানিকভাবে জাতিসংঘে উপস্থাপনের জন্য হস্তান্তর করি। একই সঙ্গে এ দর্শনের পক্ষে সমর্থন আদায়ের লক্ষ্যে আমরা জার্মান চ্যান্সেলর অফিস, ব্রিটিশ বৈদেশিক উন্নয়নমন্ত্রী এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের দপ্তরে প্রস্তাবনাটি উপস্থাপন করি। তারা প্রত্যেকেই এ দর্শনকে ‘জনগণের মুক্তির পথ হিসেবে চিহ্নিত করে জাতিসংঘে তার পূর্ণ সমর্থনের প্রত্যয় ঘোষণা করেন।  

অবশেষে, আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ, এক বছর আগে ২৫ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে আনুষ্ঠানিকভাবে দর্শনটি উপস্থাপন করেন। ওই বছরের ডিসেম্বরে তা গৃহীত হয়।  

দর্শনটি এখন বিশ্ব দলিল। বিশ্ব মানবতার মুক্তির রূপকৌশল। একইসঙ্গে এ দর্শনটি এখন বাঙালির নবজাগরণের পথনির্দেশিকা। এ কারণেই এ দর্শনটি আমরা দেশের ভেতর ব্যাপক প্রচারের উদ্যোগ নিয়েছি। সে উদ্যোগের অংশ হিসেবেই এ প্রকাশনা। এই প্রকাশনার লেখা, রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার উক্তির মাধ্যমে তার দর্শন যেকোনো পাঠক হৃদয় দিয়ে অনুধাবন করবেন বলে আমাদের বিশ্বাস।  

শেখ হাসিনা তার ৩২ বছরের রাজনৈতিক জীবনে ‘জনগণের ক্ষমতায়ন’ প্রতিষ্ঠার যে সংগ্রাম করেছেন, এ গ্রন্থ তারই স্বীকৃতি স্মারক।  

বইটি প্রকাশের উদ্দেশ্য হলো তরুণ প্রজন্মকে রাজনীতি সম্পর্কে ওয়াকিবহাল করা। রাজনৈতিক চিন্তা-চেতনা ও আদর্শে উদ্বুদ্ধ করা। রাজনীতির উপর অপ-রাজনীতির আধিপত্য এবং আগ্রাসন বন্ধ করা।  

যখনই রাজনীতির উপর আঘাত আসবে, আদর্শের রাজনীতিকে মুছে ফেলতে চাইবে অপরাজনীতির লুটেরাগোষ্ঠী, তখনই এ গ্রন্থটি সামনে এসে দাঁড়াবে আদর্শিক বর্ম হিসেবে। কাল থেকে কালান্তরে, যুগ যুগান্তরে।    

রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার তথ্যকণিকা

পরিচিতি
ভাষণ
বার্তা

চেয়ারম্যান ডেস্ক

পরিচিতি
ভাষণ
বার্তা

সাধারণ সম্পাদক ডেস্ক

পরিচিতি
ভাষণ
বার্তা

যুবলীগ প্রকাশনা