যুবলীগ সংবাদ :

শোকাবহ আগস্ট মাসব্যাপী বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের কর্মসূচী যুবজাগরণ পাঠাগার ও বিক্রয়কেন্দ্র উদ্বোধন বঙ্গমাতাকে নিয়ে যুবলীগের স্মারকগ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে রুখে দাড়াতে হবে : যুবলীগ চেয়ারম্যান জঙ্গিমুক্ত দেশ গড়তে যুবলীগের শপথ রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার কারামুক্তি দিবস পালিত শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে যুবলীগের সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচি স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে যুবলীগের শ্রদ্ধাঞ্জলী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষ্যে যুবলীগের শ্রদ্ধাঞ্জলী বইমেলায় যুবলীগের নান্দনিক আয়োজন যুবলীগ চেয়ারম্যান সম্পাদিত বইয়ের মোড়ক উন্মোচন আওয়ামী যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শেখ ফজলুল হক মনির ৭৭ তম জন্মদিন পালিত। পৌর নির্বাচনী প্রচারণায় যুবলীগের কমিটি গঠন মোমবাতি জ্বালিয়ে শহীদদের প্রতি যুবলীগের শ্রদ্ধা মালয়েশিয়ায় যুবলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার অগ্রযাত্রার মিছিলে তারুণ্যের প্রেরণা আর সাহসের দিন শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস---যুবলীগ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ওমর ফারুক চৌধুরী
রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের ৪২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত যুবজাগরণ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
2014/11/15 05:12 PM

শনিবার বিকালে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের ৪২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত যুবজাগরণ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।  

বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট দেশের জন্য 'বিষফোঁড়া' মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন, হুমকি-ধমকি দিয়ে কোনো লাভ হবে না। দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, আগামীতেও যাবে। ২০২১ সালের আগেই বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করা হবে। আর ২০৪১ সালের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ হবে বঙ্গবন্ধুর 'সোনার বাংলা'। সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা এদেশের স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন। সেই স্বাধীনতার সুফল জনগণ পেতে শুরু করেছে। আগামীতে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলায় একটি মানুষও অনাহারে থাকবে না। প্রতিটি ঘরে ঘরে আলো জ্বালানো হবে। আর কেউ অন্ধকারে থাকবে না।
হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের ক্রান্তিলগ্নে চালিকাশক্তির হাল ধরে যুবলীগ কর্মীরা বিভিন্ন আন্দেলন-সংগ্রামে অংশ নিয়েছেন। তাই দেশকে সোনার বাংলায় রূপান্তরের দায়িত্ব তাদেরই নিতে হবে। যুবকরাই একটা জাতির প্রাণ। জাতিকে এগিয়ে নেয়ার দায়িত্বও তাদেরই। যে কোনো জরুরি মুহূর্তে তাদের এগিয়ে আসতে হবে। তবে সংগঠনের বদনাম হয় এমন কোনো কাজ করা যাবে না।
আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, বিএনপি নেত্রী যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচানোর জন্য একের পর এক ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হচ্ছেন। ওনার সমাবেশে যখন যুদ্ধাপরাধীদের মুক্তির দাবি চেয়ে সস্নোগান দেয়া হয়, প্ল্যাকার্ড ঝুলানো হয় তখনই বোঝা যায়- উনি কাদের নেত্রী? যুদ্ধাপরাধের বিচার চলছে, আাগমীতে চলবে। একের পর এক তাদের রায় কার্যকর হবে।
জিয়াউর রহমান স্বাধীনতাবিরোধীদের পক্ষে ছিলেন মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, দেশ স্বাধীন হওয়ার পর বঙ্গবন্ধু যুদ্ধাপরাধীদের ভোট ও রাজনীতির অধিকার বাতিল করতে সংবিধানের ১২ ও ৩৮ নাম্বার অনুচ্ছেদে সংশোধনী আনেন। কিন্তু সেই জিয়াউর রহমানই সেটা বাতিল করে রাজাকারদের রাজনীতি করার সুযোগ করে দেন। আর তার স্ত্রী অর্থাৎ খালেদা জিয়া ক্ষমতায় এসে আলবদর বাহিনীর প্রধানকে মন্ত্রী বানান। তাদের গাড়িতে তুলে দিয়েছেন রক্তের বিনিময়ে অর্জিত জাতীয় পতাকা।
শেখ হাসিনা বলেন, 'খুনি মোশতাক ছিল মোনাফেক। আর জিয়া ছিল তার দোসর। তারা '৭৫-এর ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে শুধু হত্যা করেনি, বাংলাদেশের স্বাধীনতার চেতনাকে তারা নস্যাৎ করতে চেয়েছে। বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে খুনি মোশতাক সেনাপ্রধানের দায়িত্ব দিয়েছিল জিয়াউর রহমানকে এবং পরে তাদের নেতৃত্বেই জেলখানায় জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করা হয়।'
তিনি বলেন, জাতীয় চার নেতা হত্যার পর মোশতাক ও জিয়ারাই খুনিদের প্লেনে করে দেশের বাইরে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন এবং পরবর্তীতে তাদের রাজনীতি করার সুযোগ করে দিয়েছেন। এ থেকেই বোঝা যায়, দেশে হত্যার রাজনীতি কারা শুরু করেছিলেন।
গণতন্ত্র রক্ষায় যুবসমাজের ইতিহাস টেনে শেখ হাসিনা বলেন, 'নূর হোসেন যুবলীগের কর্মী ছিল। সে আমার হাতে তৈরি কর্মী। সে যখন মিছিলে যাচ্ছে আমি তাকে বললাম, তোমার সামনে-পেছনে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে সস্নোগান লেখা। ওরা দেখলে কিন্তু তোমাকে গুলি করবে।' নূর হোসেন গণতন্ত্রের জন্য শহীদ হয়েছেন। এদেশের গণতন্ত্রের বিকাশে যুবকরাই ভূমিকা রেখেছে। কোনো ষড়যন্ত্রকারী তাদের হাত থেকে গণতন্ত্রকে নস্যাৎ করতে পারবে না। সেজন্য যুবলীগ-ছাত্রলীগসহ যুবসমাজকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, স্বাধীনতার পর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশকে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত করার লক্ষ্যে কাজ করেছিলেন। আর সে লক্ষ্যেই বঙ্গবন্ধু ১৯৭২ সালে শেখ ফজলুল হক মনিকে দিয়ে যুবলীগ প্রতিষ্ঠা করে গেছেন। যুবলীগ নেতাদের শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেন, শেখ ফজলুল হক মনি মুক্তিযুদ্ধের একজন সংগঠক ছিলেন। তিনি অস্ত্র হাতে মুক্তিযুদ্ধও করেছেন। তিনি যুবলীগ প্রতিষ্ঠা করেছেন। তাই যুবলীগকে শক্তিশালী সংগঠনে পরিণত করতে হবে। আগামীতে যুবলীগ সদস্যরা দেশ ও জাতির কল্যাণে নিয়োজিত থাকবেন।
শেখ হাসিনা বলেন, যুব কর্মসংস্থানের জন্য জামানতবিহীন ঋণ গ্রহণের জন্য কর্মসংস্থান ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে, যেখান থেকে যে কোনো যুবক ২ লাখ টাকা ঋণ গ্রহণ করতে পারবে। এখন আর যুবকদের জমি বিক্রি করে বিদেশ যেতে হবে না। ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে বিদেশ যাবে। ফিরে এসে সেটা পরিশোধ করবে।
আউটসোর্সিংকে 'লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং' উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তথ্যপ্রযুক্তিতে ডিজিটাল সেন্টার প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। সেখানে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এখন যে কেউ আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে উপর্জন করবে।

যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরীর সভাপতিত্বে সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী এবং যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মির্জা আজম, যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশীদ, নেপালের যুব কংগ্রেসের নেতা গোলাম মাহবুব আলম প্রমুখ।

'যুব জাগরণের ডাক'_ এ স্লোগানে আয়োজিত গতকালের এই পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানকে ঘিরে যুবলীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক প্রাণচাঞ্চল্য দেখা যায়। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের অনুষ্ঠানস্থল সাজানো হয় ব্যতিক্রমী ও বর্ণাঢ্য সাজে। রাজধানীজুড়েও ছিল সংগঠনের ৪২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানের সাজসজ্জা। বিকেল ৩টায় পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান শুরুর কথা থাকলেও সকাল থেকে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশ থেকে সংগঠনের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা বাস-ট্রাকসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন এবং মিছিলসহকারে অনুষ্ঠানস্থল সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আসতে শুরু করেন। দুপুরের আগেই অনুষ্ঠানস্থল পরিপূর্ণ হয়ে যায়। জনস্রোত সোহরাওয়ার্দী উদ্যানসংলগ্ন হাইকোর্ট মাজার, দোয়েল চত্বর টিএসসি পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিকেল ৩টা ২০ মিনিটে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আসেন। জাতীয় সঙ্গীতের সুরে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন তিনি। এ সময় সংগঠনের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী সংগঠনের পতাকা উত্তোলন করেন। পরে যুবলীগের যুব গবেষণা কেন্দ্রের তিনটি প্রকাশনা 'রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার পরিবর্তনের ডাক', 'ইসলামী মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনা' এবং 'রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার অর্থনৈতিক পরিবর্তনের ডাক' বইয়ের মোড়কও উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ অতিথিরা। এর পর গীতি নৃত্যালেখ্যের মাধ্যমে তুলে ধরা হয় বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ডাক থেকে শুরু করে স্বাধীনতা-সংগ্রাম আর শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশের চিত্র। ৪২ জন নারীর অংশগ্রহণে ব্যতিক্রমী প্রদর্শনীর মাধ্যমে তুলে ধরা হয় নারীদের আত্মরক্ষা আর এগিয়ে যাওয়ার চিত্রও। অনুষ্ঠানে যুব জাগরণের ডাকে অংশ নিয়ে দেশ গঠনে আত্মনিয়োগের জন্য সংগঠনের নেতাকর্মীদের শপথবাক্য পাঠ করান সংগঠনটির চেয়ারম্যান।

রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার তথ্যকণিকা

পরিচিতি
ভাষণ
বার্তা

চেয়ারম্যান ডেস্ক

পরিচিতি
ভাষণ
বার্তা

সাধারণ সম্পাদক ডেস্ক

পরিচিতি
ভাষণ
বার্তা

যুবলীগ প্রকাশনা