যুবলীগ সংবাদ :

যুবজাগরণ পাঠাগার ও বিক্রয়কেন্দ্র উদ্বোধন বঙ্গমাতাকে নিয়ে যুবলীগের স্মারকগ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে রুখে দাড়াতে হবে : যুবলীগ চেয়ারম্যান জঙ্গিমুক্ত দেশ গড়তে যুবলীগের শপথ রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার কারামুক্তি দিবস পালিত শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে যুবলীগের সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচি স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে যুবলীগের শ্রদ্ধাঞ্জলী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষ্যে যুবলীগের শ্রদ্ধাঞ্জলী বইমেলায় যুবলীগের নান্দনিক আয়োজন যুবলীগ চেয়ারম্যান সম্পাদিত বইয়ের মোড়ক উন্মোচন আওয়ামী যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শেখ ফজলুল হক মনির ৭৭ তম জন্মদিন পালিত। পৌর নির্বাচনী প্রচারণায় যুবলীগের কমিটি গঠন মোমবাতি জ্বালিয়ে শহীদদের প্রতি যুবলীগের শ্রদ্ধা মালয়েশিয়ায় যুবলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার অগ্রযাত্রার মিছিলে তারুণ্যের প্রেরণা আর সাহসের দিন শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস---যুবলীগ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ওমর ফারুক চৌধুরী
যুবলীগের উদ্যোগে ‘লাখো কণ্ঠে সোনার বাংলা’ মহড়া অনুষ্ঠান
2014/03/25 01:36 PM

গতকাল সোমবার বিকালে রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ আয়োজিত ‘লাখো কণ্ঠে সোনার বাংলা’ জাতীয় সংগীতের মহড়া অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।

বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক হারুন-অর-রশীদের সভাপতিত্বে মহড়া অনুষ্ঠানের সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর এমপি ও বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী। তথ্যমন্ত্রী বলেন, এ বাংলায় যুদ্ধাপরাধী-মৌলবাদী-জঙ্গিবাদিদের ঠাঁই নাই। এখন লড়াই জঙ্গিবাদ বনাম গণতন্ত্রের। যুদ্ধে যুদ্ধের মতোই লড়তে হবে। মাঝামাঝি কোনো পথ নেই। বেঈমানের ক্ষমা নেই, সাপের শেষ রাখতে নেই। জঙ্গিবাদ ও মৌলবাদীদের বিপক্ষে যুদ্ধে নেতৃত্ব দিচ্ছেন শেখ হাসিনা। তার হাতকে শক্তিশালী করতে হবে। যুদ্ধাপরাধী-জঙ্গিবাদী গোষ্ঠী ঘাঁপটি মেরে আছে তারা আÍসমর্পণ করেনি। আমাদের যুদ্ধের শপথ নিতে হবে। বঙ্গবন্ধু হত্যা, ইতিহাস হত্যা, মানুষ হত্যা, মানুষের কণ্ঠরোধ করার অপরাধীদের বিচার করে বঙ্গবন্ধুর রক্তের ঋণ শোধ করবো।

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ২৬ মার্চ সমৃদ্ধ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার শপথ নিতে হবে উল্লেখ করে জাসদ সভাপতি বলেন, এটা হবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় প্রত্যাবর্তনের শপথ। ’৭৫ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতিকে অন্ধকারে ঠেলে দেওয়া হয়। জিয়া-মোস্তাক সামরিক চক্র কেবল বঙ্গবন্ধু হত্যার জন্য দায়ী নয়। একই সঙ্গে তারা ইতিহাস হত্যার অপরাধ করেছে। ইতিহাস ও বঙ্গবন্ধুকে নির্বাসনে পাঠিয়েছে। শেখ হাসিনা অন্ধকারের পথ থেকে আলোর পথে এবং বঙ্গবন্ধুকে সমহিমায় নিজ গৃহে প্রত্যাবর্তন করিয়েছেন।’

ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও ঘটনাবহুল মার্চ সম্পর্কে ইনু বলেন, ‘মার্চ মাস মুকিযুদ্ধের মাস। মার্চ মাস বাঙ্গালীর অগ্নিঝড়া আন্দোলনের মাস। মার্চ মাস পতাকার মাস। মার্চ মাস স্বশাসিত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার মাস। মার্চ মাস বাংলাদেশের জšে§র মাস। ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু অসহোযোগ আন্দোলনের মাধ্যমে বাংলাদেশের কর্তৃত্ত্ব নিজের হাতে তুলে নিয়েছিলেন। স্বশাসিত বাংলাদেশের আন্দোলনের কৌশল বলেছিলেন।

২৬ মার্চ লাখো কণ্ঠে সোনার বাংলা ‘রেকর্ডের জন্য নয়’ উল্লেখ করে ইনু বলেন, লাখো কণ্ঠে সোনার বাংলা বিশ্বের কাছে বাংলাদেশকে চেনানোর জন্য। আমাদের অস্তিত্ব জানানোর জন্য।

সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নুর বলেন, জাতির জনক বাঙালিকে স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন। আজ তার কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উন্নত বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখাচ্ছেন। লাখো কণ্ঠে জাতীয় সংগীত রেকর্ড গড়ার নয়, আমাদের চেতনায় ধারণ করার জন্য। ২৬ মার্চ আমাদের অস্তিত্বকে নতুন করে তুলে ধরব, নতুন প্রজš§কে অনুপ্রাণিত করব। যারা হত্যা, বোমাবাজি, পেট্রল ঢেলে মানুষ খুন, আন্দোলনের নামে নাশকতা করেছিল তাদের প্রতিরোধ করব। 

‘লাখো কণ্ঠে সোনার বাংলা’ অনুষ্ঠানের জন্য আগারগাঁওয়ের প্যারেড গ্রাউন্ডে সকাল সাড়ে ৬টা থেকে ১০টা পর্যন্ত গেট খোলা থাকবে। অষ্টম শ্রেণীর নিচে পড়ে এমন কাউকে নেওয়া যাবে না। কোনো ব্যানার ফেস্টুন সঙ্গে আনা যাবে না। সশস্রবাহিনী অনুষ্ঠান সমন্বয় করবে। যারা ভেতরে প্রবেশ করবে তাদের প্রত্যেককে একটি করে ব্যাগ দেওয়া হবে। ব্যাগের মধ্যে পানি, জুস, ঔষধপত্র ও একটি কার্ড থাকবে বলে সমাবেশে সংস্কৃতিমন্ত্রী জানান।

স্বাগত বক্তব্যে বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ওমর ফারুক চৌধুরী বলেন, অগ্নিঝরা মার্চ মাস বাঙালির ইতিহাসে এক অনন্য তাৎপর্যে ভাস্বর। গাছে গাছে নতুন পাতা, শিমুল পলাশের শাখায় রক্তিম আভা, রৌদ্রকরোজ্জ্বল দিন।

অগ্নিঝরা মার্চ মাস বাঙালির ইতিহাসের সর্বসেরা মাস। কেন মার্চ মাস বাঙালির ইতিহাসে সর্বসেরা? বাঙালির হাজার বছরের ইতিহাসের মধ্যে সর্বসেরা মাস হলো মার্চ মাস। পরম করুণাময় আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের অশেষ মেহেরবাণীতে বাঙালির ললাট থেকে পরাধীনতার কলঙ্ক মুছে নিতে এই মার্চেই পৃথিবীতে এসেছিলেন ক্ষণজš§া মহান নেতা সর্বকালের, সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, স্বাধীনতার রূপকার জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ স্বাধীনতার ঘোষণা, ইতিহাসের নজিরবিহীন অসহযোগ আন্দোলন। পাকিস্তানি পতাকা ছিঁড়ে ফেলে স্বাধীন বাংলাদেশের মানচিত্র খচিত জাতীয় পতাকা উত্তোলন। ধানমন্ডির-৩২ নম্বর বাড়িটি একটি ঐতিহাসিক বাড়ি। এ বাড়ি থেকেই বাংলাদেশের প্রশাসন, কোর্ট-কাচারী, সামাজিক-সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার অনুষ্ঠানিক ঘোষণার ভিত্তিতে মুক্তিযুদ্ধের সূচনা। (যে পথে নয় মাসে ত্রিশ লাখ শহীদ ও ৬ লাখ মা-বোনের সম্ভ্রম ও আÍত্যাগের বিনিময়ে ১৬ ডিসেম্বরের বিজয় অর্জন)। এসব একেকটি নজিরবিহীন কালজয়ী ঘটনা, একেকটি ইতিহাস এবং যে ইতিহাসের স্রষ্টা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। যা কিছু সংগ্রাম, যা কিছু আন্দোলন কর্মসূচি সবই হয়েছে বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে ও নেতৃত্বে। মার্চ ১৯৭১, ২৬ তারিখ প্রথম প্রহর বঙ্গবন্ধু তার ধানমন্ডির বাসভবন থেকে স্বাধীনতার অনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন।

এই সেই রেসকোর্স ময়দান, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, এই ময়দানটিতে যখন আমরা সমবেত হই তখন রোমাঞ্চিত হই, শিহরিত হই, উদ্দীপ্ত হয়ে উঠি। আমাদের মনে পড়ে, এই মাঠে দাঁড়িয়ে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭১ সালে ৭ মার্চ তার সেই কালজয়ী ভাষণটি দিয়েছিলেন। পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ সে ভাষণে তিনি বাঙালি জাতিকে একতাবদ্ধ করেছিলেন, উদ্বুদ্ধ করেছিলেন স্বাধীনতার জন্য, জীবনের বিনিময়ে হলেও যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার জন্য। নিরস্ত্র সাধারণ মানুষের বুকে অসীম সাহস সঞ্চার করেছিলেন পাকিস্তানি সশস্ত্রবাহিনীর সঙ্গে সংগ্রামে লিপ্ত হওয়ার জন্য। আজ এ ময়দানে দাঁড়িয়ে বড় বিস্ময় জাগে মনে, কী অসম্ভব আÍবিশ্বাস তিনি সেদিন জাগিয়ে তুলেছিলেন বাঙালির হƒদয়ে। তার সেই ভাষণটিই বদলে দিয়েছিল একটি জাতির ইতিহাস।

বাঙালি জাতি তার পরম আকাক্সক্ষার স্বাধীনতার ডাক শুনতে পেয়েছিল বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণে। পেয়েছিল পরবর্তী দিকনির্দেশনা। সেদিন স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল বাঙালির ভবিষ্যৎ। মনে-প্রাণে বাঙালি প্রস্তুত হয়ে উঠেছিল পরাধীনতার নিগড় ভেঙ্গে ফেলতে। জাতীয় সংগীতটিও পেয়েছিল সেই দিন এই ময়দানে। 

এই ময়দানে ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশে যে গানটি গাওয়া হয়েছিল অনানুষ্ঠানিক জাতীয় সংগীত হিসেবে আজ সেই গান ‘আমার সোনার বাংলা’ আমাদের জাতীয় সংগীতের মর্যাদায় আসীন। এই গান লাখো কণ্ঠে গেয়ে বিশ্ব রেকর্ড করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেশজুড়ে চলছে তার প্রস্তুতি। এরসঙ্গে একাÍতা জানিয়ে দেশের ঐতিহ্যবাহী যুব সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগও এ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছে। আগামী ২৬ মার্চ জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে মূল আয়োজনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি হিসেবে যুবলীগের হাজার হাজার কর্মীর অংশগ্রহণের আয়োজন করা হয়েছে এই জাতীয় সংগীতের মহড়া। এছাড়া ‘আমার সোনার বাংলা’ গানটির নানা তথ্য নিয়ে ‘চিরকালের ভালবাসার গান’ নামে একটি আকর্ষণীয় সচিত্র দ্বিভাষিক পুস্তিকা প্রকাশেরও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আমাদের মনে রাখা দরকার কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গভীর অনুরাগী ছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। অতিব্যস্ত রাজনৈতিক জীবনেও তিনি সময়-সুযোগ মিললেই রবীন্দ্রনাথের রচনা পাঠ করতেন। তার গানে নিমগ্ন হতেন। রবীন্দ্রনাথের মানবিক চেতনা ও মূল্যবোধকে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করতেন। তা থেকে প্রেরণা লাভ করতেন। নিজের রাজনৈতিক ভাবাদর্শেও নানাক্ষেত্রে রবীন্দ্র চেতনার প্রতিফলন ঘটানোর প্রয়াস পেতেন। বঙ্গবন্ধু তার রাজনৈতিক জীবনের অজস্র ভাষণে, আলোচনায়, ব্যক্তিগত আলাপচারিতায়, প্রসঙ্গক্রমে কবিগুরুর বিচিত্রময় রচনা সম্ভার থেকে নানা উদ্ধৃতি দিয়েছেন। 

এই সূত্রেই ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ ঐতিহাসিক ভাষণটি দেওয়ার সময় তার নির্দেশেই এখানে সে সময়ের তরুণ শিল্পীরা কবিগুরুর ‘আমার সোনার বাংলা’ গানটি গেয়েছিলেন। গানের সঙ্গে ১০ লাখ মানুষ সেদিন উঠে দাঁড়িয়ে সম্মান জানিয়েছিলেন। তারা কণ্ঠও মিলিয়েছিলেন গানটির সঙ্গে। তবে সেদিন গানটি বিধিবদ্ধভাবে জাতীয় সংগীত হিসেবে স্বীকৃত ছিল না।

কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরেরÑ ‘আমার সোনার বাংলা’ এ গানটির বয়স শতাব্দীকাল পেরিয়েছে। আমরা এ গানটি জাতীয় সংগীত হিসেবে পেয়েছি ১৯৭১ সালে। আমাদের জাতীয় সংগীত এমন গান যাতে জননী ও জš§ভূমিকে অকপটে ভালবাসার কথাই সুমধুর সুরে বারবার সুরে সুরে বলা হয়েছে। আবার এ সংগীতটি রচনা করেছেন এমন একজন মানুষ যিনি মেধা, মনীষা, সৃজনশীলতার সুউচ্চ হিমালয়তুল্য। যিনি আমাদের মাতৃভাষাকে পৌঁছে দিয়েছেন বিশ্বাসভার গৌরবময় আসনে। কবিরা নাকি ভবিষ্যৎ প্রবক্তা হন, এমন কথা প্রচলিত আছেÑ ‘আমার সোনার বাংলা গানটিকে নিয়ে’। একটু ভাবলে এখন খুব সহজেই মনে হয়, যেন আমাদের জাতীয় সংগীত হওয়ার জন্যই কবিগুরু এ গানটি রচনা করেছিলেন। যেন তিনি জানতেন, একদিন ঠিকই স্বাধীন হবে বাঙালি। তার প্রয়োজন হবে দেশকে, জাতিকে, জননী ভালবাসার এমন একটি গান, ব্রিটিশ শাসিত পরাধীন ভারতের গানটি তিনি লিখেছিলেন যেন ভবিষ্যৎ বাঙালির কথা ভেবেই।

আজ এক ভিন্নমাত্রার উদ্দীপনা নিয়ে জাতি এবার ৪৪তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করতে যাচ্ছে। লাখো কণ্ঠে জাতীয় সংগীত ‘আমার সোনার বাংলা’ গেয়ে বিশ্ব রেকর্ড করা হবে এবারের স্বাধীনতা দিবসে। দেশজুড়ে সর্বস্তরের মানুষকে নিয়ে একসঙ্গে জাতীয় সংগীত গাওয়ার এই ভাবনাটি ছিল রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার। এক্ষেত্রে এই কথাটি উল্লেখ করতেই হয় যে, রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা যে কোনো অনুষ্ঠানে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের সময় শুধু উঠে দাঁড়িয়ে সম্মান প্রদর্শন করেন না, জাতীয় সংগীতের সঙ্গে কণ্ঠও মেলান। যা দেশে ইতোপূর্বে অন্য কোনো রাষ্ট্র বা সরকারপ্রধানদের ক্ষেত্রে দেখা যায়নি। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে সশত্রবাহিনী বিভাগ এ কর্মসূচিটি বাস্তবায়ন করছে। 

রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার বাংলাদেশ আজ বিশ্বের কাছে পরিচিতি পেয়েছে “উন্নয়নের বিস্ময়” অভিধায়। এককালের “তলাবিহীন ঝুড়ি” এখন দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হওয়ার লক্ষ্যে। রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা ঘোষণা করেছেন, ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ পরিণত হবে মধ্যম আয়ের দেশে। বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তিনি ২০১১ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভায় উপস্থাপন করেন বিশ্ব শান্তির মডেল। এ শান্তির মডেলে রয়েছে তার রাজনৈতিক দর্শন। যে দর্শনে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে “জনগণের ক্ষমতায়ন”-এর প্রতি। বলা হয়েছেÑ জনগণকে ক্ষমতার কেন্দ্রে নিয়ে আসার মধ্য দিয়েই বিশ্বের কল্যাণ ও শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে।

রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা কেবল জাতিসংঘে শান্তির মডেল উপস্থাপন করেই নিষ্ক্রিয় হয়ে থাকেননি। এগিয়ে চলেছেন তা বাস্তবায়নের পথে। সেই লক্ষ্যে ঘোষণা করেছেন রূপকল্প-২০৪১। এই রূপকল্পের পথ ধরে বাংলাদেশ অধিষ্ঠিত হবে বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর সমপর্যায়ে। 

সমাবেশে একথাই বলতে চাই আমরা মনে করি শুধু বিশ্বরেকর্ড করাই এই বিপুল কর্মযজ্ঞের মূল কথা নয়। এর তাৎপর্য আরও গভীর ও ব্যাপক। দেশজুড়ে জাতীয় সংগীত নিয়ে এই যে, বিপুল কর্মযজ্ঞ চলছে, তা সব ভেদাভেদ থেকে জাতিকে মুক্ত করে আবার গেঁথেছে একসূত্রে। জাগিয়েছে ঐক্যের চেতনা। সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প অপসারণ করে বাংলার আকাশকে আবার সুনির্মল করে তুলতে উদ্দীপ্ত করে তুলেছে সব শ্রেণী-পেশার মানুষকে। এটি এ বিপুল আয়োজনের অনন্য অর্জন। আমরা গভীরভাবে বিশ্বাস করি, এ ঐক্যবদ্ধ বাঙালি জাতি দেশকে ভালবাসার এই গান গেয়ে এগিয়ে যাবে। দুর্জয় বাঙালি জয় করে নেবে তার সব অধিকার। রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার দৃঢ় নেতৃত্বে জনগণের ক্ষমতায়ন চবড়ঢ়ষব’ং ঊসঢ়ড়বিৎসবহঃ বাস্তবায়িত করবে যে স্বপ্নের অঞ্জন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এঁকে দিয়ে গেছেন তাদের চোখে। সব প্রতিকূলতা পেরিয়ে দৃপ্ত পদক্ষেপে সেই পথেই আজ এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ।

জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরিন শারমিন চৌধুরী, মাননীয় সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নুরসহ মাননীয় তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু তাদের কর্মব্যস্ততার মধ্যেও আমাদের এ আয়োজনে অংশ নেওয়ায় তাদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। 

মহড়া অনুষ্ঠানে ধন্যবাদ জানিয়ে বক্তব্য রাখেন যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশীদ। উপস্থিত ছিলেন যুবলীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য-চয়ন ইসলাম, সিরাজুল ইসলাম মোল্লা, মজিবুর রহমান চৌধুরী, ফারুক হোসেন, আনোয়ারুল ইসলাম, অধ্যাপক আমজাদ হোসেন, যুগ্ম সম্পাদক মহিউদ্দিন আহম্মেদ মহি, সুব্রত পাল, সাংগঠনিক সম্পাদক সালাউদ্দিন মাহমুদ জাহিদ, আমির হোসেন গাজী, বদিউল আলম, ফজলুল হক আতিক, আবু আহম্মেদ নাসিম পাভেল, আজহার উদ্দিন, দপ্তর সম্পাদক কাজী আনিসুর রহমান, ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগ সভাপতি মাইনুল হোসেন খান নিখিল, সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগ সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট, কেন্দ্রিয় যুবলীগ সম্পাদকমণ্ডলীর সহিদুল হক রাসেল, মিজানুল ইসলাম মিজু, ইঞ্জি. মো. ফারুক মিয়া, আওলাদ হোসেন রুহুল, শাহজালাল, বাবুল আক্তার বাবলা, মো. আনোয়ার হোসেন, মাওলানা খলিলুর রহমান, উপ-সম্পাদকমণ্ডলী শেখ বোরহান উদ্দিন বাবু, ইকবাল মাহমুদ বাবলু, মতিউর রহমান বাদশা, মোহম্মদ ইসলাম, মো. রফিকুল ইসলাম চৌধুরী, মীর শরীফ হাসান লেলিন, জেসমিন শামীমা নিঝুম, নিজাম উদ্দিন চৌধুরী পারভেজ, নাসরিন সুলতানা ঝরা প্রমুখ নেতারা।

রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার তথ্যকণিকা

পরিচিতি
ভাষণ
বার্তা

চেয়ারম্যান ডেস্ক

পরিচিতি
ভাষণ
বার্তা

সাধারণ সম্পাদক ডেস্ক

পরিচিতি
ভাষণ
বার্তা

যুবলীগ প্রকাশনা