যুবলীগ সংবাদ :

যুবজাগরণ পাঠাগার ও বিক্রয়কেন্দ্র উদ্বোধন বঙ্গমাতাকে নিয়ে যুবলীগের স্মারকগ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে রুখে দাড়াতে হবে : যুবলীগ চেয়ারম্যান জঙ্গিমুক্ত দেশ গড়তে যুবলীগের শপথ রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার কারামুক্তি দিবস পালিত শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে যুবলীগের সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচি স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে যুবলীগের শ্রদ্ধাঞ্জলী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষ্যে যুবলীগের শ্রদ্ধাঞ্জলী বইমেলায় যুবলীগের নান্দনিক আয়োজন যুবলীগ চেয়ারম্যান সম্পাদিত বইয়ের মোড়ক উন্মোচন আওয়ামী যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শেখ ফজলুল হক মনির ৭৭ তম জন্মদিন পালিত। পৌর নির্বাচনী প্রচারণায় যুবলীগের কমিটি গঠন মোমবাতি জ্বালিয়ে শহীদদের প্রতি যুবলীগের শ্রদ্ধা মালয়েশিয়ায় যুবলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার অগ্রযাত্রার মিছিলে তারুণ্যের প্রেরণা আর সাহসের দিন শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস---যুবলীগ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ওমর ফারুক চৌধুরী
কালোত্তীর্ণ এক অনবদ্য দলিল ‘রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার দর্শন’
03/03/2014 12:39 AM

 অক্টোবর ০৪, ২০১২ 

কালোত্তীর্ণ এক অনবদ্য দলিল ‘রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার দর্শন’

একটি দর্শন বা চিন্তার প্রকাশের সবচেয়ে বড় বাহন হলো একটি বিন্যস্ত প্রকাশনা। একটি ভালো মানের প্রকাশনা একটি দর্শনকে কেবল প্রতিষ্ঠিতই করে না, ওই দর্শন বাঁচিয়ে রাখে যুগের পর যুগ। নেলসন ম্যান্ডেলার ওপর গ্রন্থ ‘লিভিং উইথ ম্যান্ডেলা’ যেমন নেলসন ম্যান্ডেলাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। যেমন পিকাসোর ওপর লেখা ‘দ্যা আর্ট অব পেইন্টিং’ পিকাসোকে মহিমান্বিত করেছে অনন্তকালের জন্য, ঠিক তেমনি একটি গ্রন্থ সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে বাংলাদেশ থেকে। ‘রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার দর্শন’ শিরোনামে গ্রন্থটির প্রকাশক আওয়ামী যুবলীগের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ওমর ফারুক চৌধুরী। ২১৬ পৃষ্ঠার এ গ্রন্থটি দুই ভাষায় মুদ্রিত। মুদ্রণে আধুনিকতা এবং চমৎকার ডিজাইন বইটিকে আকর্ষণীয় করেছে। গ্রন্থটিতে রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার রাজনৈতিক দর্শন ‘জনগণের ক্ষমতায়ন’ মডেলটিকে যেমন রাখা হয়েছে, তেমনি বিভিন্ন সময়ে তার উক্তির মাধ্যমে এ দর্শনের বিবর্তন ও বিকাশকে তুলে ধরা হয়েছে। এ দর্শনের সঙ্গে আছে বঙ্গবন্ধুর কনিষ্ঠ কন্যা শেখ রেহানা, প্রবাসী কলামিস্ট সাংবাদিক আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী, প্রয়াত জাতীয় অধ্যাপক কবীর চৌধুরী, সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হক, সাংবাদিক বেবী মওদুদ এমপি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আআমস আরেফিন সিদ্দিক, কবি মহাদেব সাহা, অর্থনীতিবীদ কাজী খলীকুজ্জামান আহমদ, ব্যাংকার খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ ও কবি মুহাম্মদ সামাদ-এর লেখা। গ্রন্থটিতে রয়েছে রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার দুর্লভ কিছু ছবি। দর্শন, উক্তি, জনগণের ক্ষমতায়ন, মডেল, বিশিষ্টজনের লেখার সঙ্গে রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার ছবি মিলিয়ে এ গ্রন্থটি হয়েছে একটি অনন্য এবং পূর্ণাঙ্গ দলিল।  

গ্রন্থটির প্রকাশক এবং যুবলীগের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী বইটির শুরুতেই গ্রন্থটির পটভূমি বর্ণনা করেছেন এভাবেঃ 

‘বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই আমি সংগঠনটির আদর্শিক চেতনা এবং এর বিকাশের ব্যাপারে উদ্যোগী হই। সে লক্ষ্যেই প্রথমে আমাদের রাজনীতির শেকড় অনুসন্ধানের কাজ করি। সে কারণেই, রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার চিন্তা, তার রাজনৈতিক কর্ম, তার দর্শন বিশ্লেষণের চেষ্টা করি। আমি সবসময় পেশাদারিত্ব এবং উপযুক্ত ব্যক্তিদের দিয়ে কাজ করানোর পক্ষপাতী। এ লক্ষ্যেই শেখ হাসিনার রাজনীতি, তাঁর চিন্তা-ভাবনাগুলোকে ধারণের জন্য একটি পেশাদার গবেষক দল তৈরি করা হয়। আমার নেতৃত্বে এ গবেষকদলে ছিলেন যুবলীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক জাতীয় সংসদের হুইপ, বর্তমান বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কার্যকরী কমিটির সদস্য মির্জা আজম এমপি, যুবলীগের সাবেক চেয়ারম্যান এবং স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক এমপি। বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সভাপতি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান ড. আবুল বারাকাত, তথ্য কমিশনার ড. সাদেকা হালিম, বিশিষ্ট গণমাধ্যম বিশেষজ্ঞ সৈয়দ বোরহান কবীর, তরুণ গবেষক ইশতিয়াক আহমেদ চৌধুরী।এ গবেষকদলটি দীর্ঘ প্রায় এক বছর ধরে শেখ হাসিনার রাজনীতির ওপর গবেষণা করে। গবেষণার ফলাফল ছিল ঐতিহাসিক, তাৎপর্যপূর্র্ণ এবং অসাধারণ। এ গবেষণায় আমরা রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার রাজনীতি বিশ্লেষণ করে দেখি যে, জাতির পিতার রাজনৈতিক আদর্শে বড় হলেও শেখ হাসিনাকে কখনই ইন্দিরা গান্ধি কিংবা বেনজীরের মতো ভবিষ্যতের নেত্রী হিসেবে গড়ে তোলা হয়নি। শেখ হাসিনা বিকশিত হয়েছেন তার আপন মহিমায় চারপাশের পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতির মধ্যে। ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্ট জাতির পিতার দুর্ভাগ্যজনক হত্যাকাণ্ডের পর শেখ হাসিনার মূল রাজনৈতিক জীবনের সূত্রপাত। মাত্র ৩২ বছর বয়সে তিনি দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দলের নেতৃত্ব নেন। যেখানে সব কিছু তাকে দ্রুত আয়ত্ত করতে হয়েছে সম্পূর্ণ প্রতিকূল পরিস্থিতিতে। আমরা গবেষণায় তার জীবন ও রাজনীতি বিশ্লেষণ করে পাই যে, তার রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে বড় পাথেয় ও শক্তি হলো জনগণ। রাজনীতিতে শেখ হাসিনার এক অভূতপূর্ব দিক হলোÑ তিনি জনগণের হƒদ স্পন্দন শুনতে পান।  

জনগণের চাওয়া-পাওয়া, বিমূর্ত অনুভূতিগুলো তাকে সহজেই স্পর্শ করে। আর সে কারণেই যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণে তিনি ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠী স্বার্থের চেয়ে জনগণের স্বার্থকে গুরুত্ব দেন। আমরা দেখেছি, তিনি সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় জনগণের অংশগ্রহণ এবং জনগণের স্পষ্ট মতামতের এক দৃঢ় প্রবক্তা। ১৯৮১ সালে স্বৈরাচারী শাসনের কবলে নিষ্পেষিত জাতিকে জাগাতে তাই তিনি অস্ত্র নয়, জন জাগরণের পথ বেছে নেন। তার রাজনীতির বিষয়টি হলো এরকম জনগণকে সচেতন করো, তাদের জাগাও, তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের মূল নিয়ামক করো, তাহলেই শান্তি আসবে, মানুষের উন্নতি হবে। তিনি হয়তো দর্শন আকারে কাজটি করেননি, কিন্তু তার প্রতিটি কাজের এবং চেতনার মূল বিষয় হলো ‘জনগণ’। একারণেই আমরা শেখ হাসিনার রাজনৈতিক দর্শনের নাম দিয়েছি ‘জনগণের ক্ষমতায়ন’।  

গ্রন্থ প্রকাশের কারণে তিনি লিখেছেন এ দর্শনটি এখন বিশ্ব দলিল। বিশ্ব মানবতার মুক্তির রূপ কৌশল। একইসঙ্গে এ দর্শনটি এখন বাঙালির নব জাগরণের পথ নির্দেশিকা। একারণেই এ দর্শনটি আমরা দেশের ভেতর ব্যাপক প্রচারের উদ্যোগ নিয়েছি। সে উদ্যোগের অংশ হিসেবেই এই প্রকাশনা।  

গ্রন্থটির মুখবন্ধে বলা হয়েছে রাষ্ট্রনায়ক ও বিশ্বনেত্রী শেখ হাসিনা। বাঙালি জাতির এক চরম দুঃসময়ে তিনি কাণ্ডারি হিসেবে দায়িত্ব তুলে নেন। ১৯৮১ সালের ১৭ মে থেকে টানা ৩২ বছর দেশের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে তিনি। তাঁর নেতৃত্বে বাঙালি জাতি ভোটের অধিকার ফিরে পেয়েছে। স্বৈরশাসনের শৃঙ্খল থেকে মুক্তি পেয়েছে। আত্মনির্ভর ও স্বনির্ভর বাংলাদেশের রূপকার তিনি। রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার রাজনীতির মূল দর্শন ‘জনগণের ক্ষমতায়ন’। সিদ্ধান্ত গ্রহণের কেন্দ্রে জনগণকে নিয়ে আসাই তাঁর রাজনীতির মূলকথা। আর এই ‘জনগণের ক্ষমতায়ন’ এখন বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার প্রধান মডেল। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে এ মডেল ১৯৩টি দেশ কর্তৃক সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হয়েছে। দেশে দেশে শেখ হাসিনা এখন বিশ্বমানবতার কণ্ঠস্বর, আর্তমানবতার মুখচ্ছবি। নির্যাতিত-নিপীড়িত মানুষের কণ্ঠস্বর। ৩২ বছরের রাজনৈতিক জীবনে তিনি এই দর্শনকে লালন ও বিকশিত করেছেন। এ বছর রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা ৬৪ বছর পূর্ণ করে ৬৫-তে পা দেবেন। জীবনের অর্ধেকটাজুড়ে তিনি কেবল মানুষের মঙ্গলের জন্য কাজ করেছেন। বিশ্বে কম নেতাই আছেন, যাঁরা এ দীর্ঘদিন জনগণের কল্যাণে কাজ করেছেন। তাঁর জীবন ও কর্ম মানুষের জীবন কল্যাণে উৎসারিত।  

৬৫তম জন্মদিনে এ কারণেই রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার জীবন ও দর্শনভিত্তিক এ গ্রন্থটি প্রকাশ করা হলো। যেন আজ ও আগামী প্রজন্ম তাঁর দর্শনকে উপলব্ধি ও আত্মস্থ করে এবং সেভাবেই রাজনৈতিক আদর্শভিত্তিক একটি সমাজ বিনির্মাণে উদ্যোগী হয়।’  

বাংলাদেশের রাজনীতিতে পুস্তক, পুস্তিকার প্রচলন থাকলেও তার সংখ্যা কমে আসছে। কালদর্শী প্রকাশনা ও সংকলন নেই বললেই চলে। রাজনৈতিক দলিল প্রকাশনার ক্ষেত্রেও দৃষ্টিভঙ্গী খুবই ক্ষুদ্র পরিসরের। দীর্ঘস্থায়ী দৃষ্টিভঙ্গী এবং চিন্তার আলোকে প্রকাশনার শূন্যতা আমাদের রাজনৈতিক অঙ্গনে নেই বললেই চলে। এ অপূর্ণতার মধ্যে ‘রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার দর্শন’ এক অসাধারণ ব্যতিক্রম। এ বইটি একটি পূর্ণাঙ্গ প্রামাণ্যচিত্র, অনবদ্য দলিল এবং কলোত্তীর্ণ একটি প্রকাশনা।  

রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার তথ্যকণিকা

পরিচিতি
ভাষণ
বার্তা

চেয়ারম্যান ডেস্ক

পরিচিতি
ভাষণ
বার্তা

সাধারণ সম্পাদক ডেস্ক

পরিচিতি
ভাষণ
বার্তা

যুবলীগ প্রকাশনা