যুবলীগ সংবাদ :

শোকাবহ আগস্ট মাসব্যাপী বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের কর্মসূচী যুবজাগরণ পাঠাগার ও বিক্রয়কেন্দ্র উদ্বোধন বঙ্গমাতাকে নিয়ে যুবলীগের স্মারকগ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে রুখে দাড়াতে হবে : যুবলীগ চেয়ারম্যান জঙ্গিমুক্ত দেশ গড়তে যুবলীগের শপথ রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার কারামুক্তি দিবস পালিত শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে যুবলীগের সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচি স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে যুবলীগের শ্রদ্ধাঞ্জলী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষ্যে যুবলীগের শ্রদ্ধাঞ্জলী বইমেলায় যুবলীগের নান্দনিক আয়োজন যুবলীগ চেয়ারম্যান সম্পাদিত বইয়ের মোড়ক উন্মোচন আওয়ামী যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শেখ ফজলুল হক মনির ৭৭ তম জন্মদিন পালিত। পৌর নির্বাচনী প্রচারণায় যুবলীগের কমিটি গঠন মোমবাতি জ্বালিয়ে শহীদদের প্রতি যুবলীগের শ্রদ্ধা মালয়েশিয়ায় যুবলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার অগ্রযাত্রার মিছিলে তারুণ্যের প্রেরণা আর সাহসের দিন শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস---যুবলীগ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ওমর ফারুক চৌধুরী
শেখ হাসিনার দর্শনের মূল কথাগুলো তৃণমূলে প্রচার করব: মোহাম্মদ ওমর ফারুক চৌধুরী
03/03/2014 12:38 AM

প্রশ্ন : তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে দেশে একটি রাজনৈতিক সংকট সৃষ্টি হয়েছে। আওয়ামী যুবলীগের চেয়ারম্যান হিসেবে আপনি এই সংকটকে কীভাবে দেখেন?  

মো. ওমর ফারুক চৌধুরী : মানুষের ভোটের অধিকার নিশ্চিত করার জন্য জনগণের ক্ষমতায়নের নেত্রী, রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা, ১৯৯০ এ নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের রূপরেখা ঘোষণা করেছিলেন। সেই অনুযায়ী ১৯৯০ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা চালু হয়েছিল। ১৯৯৪-এ এসে মাগুরা, মীরপুরসহ বিভিন্ন নির্বাচনে নজিরবিহীন কারচুপি এবং ভোট ডাকাতির প্রেক্ষাপটে, জননেত্রী শেখ হাসিনা জনগণের ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে তিন মেয়াদের জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি প্রবর্তনের দাবি উত্থাপন করেন। এ সময়ে রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা সারা দেশ ঘুরে ঘুরে ‘আমার ভোট আমি দেবো, যাকে খুশী তাকে দেবো’ এই দাবিতে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন। কিন্তু সে সময় বিএনপি, নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি অগ্রাহ্য করে ১৯৯৬-এর ১৫ ফেব্রুয়ারী এক তরফা নির্বাচনের চেষ্টা করে। কিন্তু এদেশের জনগণ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সেই প্রহসনের নির্বাচন প্রতিহত করলে বিএনপি ’৭৫ সালের খুনি এবং ধর্মান্ধ মৌলবাদী গোষ্ঠীকে নিয়ে একটি ভৌতিক এবং অসম্পূর্ণ সংসদ গঠন করে। ঐ কথিত সংসদ, রাতের অন্ধকারে বিরোধী দলের দাবির মুখে নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিল পাস করে। এরপর ’৯৬, ২০০১ এবং ২০০৮-এ নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। আপনি লক্ষ করবেন, প্রতিটি নির্বাচনেই পরাজিত দল নির্বাচনে গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, বিভিন্ন কারচুপির অভিযোগ উত্থাপন করেছেন। উপরন্তু নির্দলীয় সরকার তার রুটিন কাজের বাইরে গিয়ে অনেক বিতর্কিত বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। ২০০৬ সালের নির্দলীয় সরকার তো দুই বছর একরকম গায়ের জোরে দেশ পরিচালনা করেছে।  

আপনি লক্ষ করে আরো দেখবেন, ২০০১ সালে ক্ষমতায় এসে বিএনপি-জামায়াত জোট তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে মাথায় রেখে প্রশাসনকে দলীয়করণ করে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রধান নিজেদের পছন্দের ব্যক্তিকে করতে প্রধান বিচারপতির বয়সবৃদ্ধি করে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাকে চূড়ান্ত রাজনৈতিক বিতর্কে নিমজ্জিত করে বিএনপি ওয়ান ইলেভেন ডেকে আনে। নানা বিতর্ক, সমস্যা ও প্রতিবন্ধকতার পরও আমাদের গণতন্ত্র দুই দশক সময় পার করেছে। অনির্বাচিত কিছু ব্যক্তি একটি সুষ্ঠু নির্বাচন করবে কিন্তু রাজনীতিবীদদের প্রতি অনাস্থা এবং অনীহা একটি চিরস্থায়ী ব্যবস্থা হিসেবে দাঁড়াতে পারে না। পৃথিবীর কোনো গণতান্ত্রিক দেশেই এই পদ্ধতি নেই। বাংলাদেশে নির্বাচন কমিশনসহ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাপনাকে সংহত করতে আপদকালীন ব্যবস্থা হিসেবে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা করা হয়েছিল, কিন্তু এটি অনির্বাচিত ব্যক্তিদের দিয়ে চিরস্থায়ী ব্যবস্থা হতে পারে না।  

সম্প্রতি সময়ে বিভিন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচন, পৌরসভা নির্বাচন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন এবং বিভিন্ন আসনে উপ-নির্বাচন আমাদের নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধানে অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়েছে। এক্ষেত্রে বিরোধী দলের পক্ষ থেকেও কোনো অভিযোগ করা হয়নি।  

প্রশ্ন : ঐক্যবদ্ধ শক্তির ব্যাপারে যুবলীগের কী কোনো চিন্তা-ভাবনা রয়েছে। সেই চিন্তা-চেতনাটি কি? কী ধরনের যুবক নিয়ে আপনারা এগিয়ে যেতে চান?  

মো. ওমর ফারুক চৌধুরী : ঐক্য কথাটি খুব কঠিন। অস্তিত্বের সংগ্রামে সবাই জোট বাঁধে। জোট একটি সংঘবদ্ধশক্তি। কিন্তু জোট বাঁধা সহজ কথা নয়। কারণ জোট বাঁধার জন্য মানবিক ঔদার্য্য, যুক্তি, পরিস্থিতির বিবেচনায় যে রকম এক হওয়া প্রয়োজন বাস্তবে তা হওয়া কঠিন। জীবনের দাবি আর লড়াইয়ের দাবি একসূত্রে গাঁথা না হলে সর্বাÍক ঐক্য জরুরি হয়ে ওঠে না। কোনো মানুষের একটি কাজ দিয়ে তার দক্ষতা যাচাই করা যায় না। মানুষ বুদ্ধির পরিচয় দেয় জ্ঞানের বিষয়ে, যোগ্যতার পরিচয় দেয় কৃতিত্বে, নিজের পরিচয় দেয় সৃষ্টিতে। আবার একেকটি সময় মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি এক এক প্রকার হয়ে থাকে।  

যুব ঐক্য বলতে আমি বুঝি সকল ধরনের যুবকের মেলবন্ধন। চিন্তাশীল যুবক, কর্মঠ যুবক, অলস যুবক, মেধাবী যুবক, মেধাহীন অস্থির যুবক, সবল যুবক, বিবেকবান যুবক, বোকা যুবক ইত্যাদি। একটি অগ্রসর সমাজ বির্নিমাণে প্রত্যেকেরই কিছু না কিছু ভূমিকা থাকে। আমরা সকল ধরনের যুবশক্তির স্ব স্ব ক্ষেত্রে তার মেধাকে কাজে লাগাতে চাই। আমরা মনে করি, বিভিন্ন ক্ষেত্রে যুব সমাজের যে সৃষ্টিশীলতা, উদ্যম, মেধা রয়েছে তার ঐক্য, সমন্বয় ও মেলবন্ধন প্রয়োজন। এজন্যই আমরা সব ধরনের যুবকের ঐক্য গড়ে তুলতে চাই। সকল চিন্তা, সৃষ্টি-কর্ম ও উদ্দীপনা ধারণের ঐক্যই আমাদের কাছে মুখ্য। যেমন, পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ ধনী বিল গেটস বলেছেন, আমি অলসদের দিয়েই বেশি কাজ করিয়ে নেই দ্রুততম সময়ে। কেননা আলসেমির কারণেই তার দায়িত্বপ্রাপ্ত কাজটি চৌকসবুদ্ধির মাধ্যমে দ্রুত সেরে ফেলতে চায়। আবার দেখুন, হযরত উমর ফারুক (রা.) ইসলাম গ্রহণের পূর্বে ছিলেন খারাপ যুবকদের সেরা। আবার ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হওয়ার পর হলেন ভালোদের সেরা। পৃথিবীর বিখ্যাত সেরাশাসক নবীজি তাকে দীক্ষা দেওয়ায় তিনি তার যৌবনকে বিখ্যাতদের কাতারে নিয়ে গেলেন। তাই রাসুল (সা.) তার ইসলাম গ্রহণের পর বললেন, ‘তোমাদের মধ্যে যারা অজ্ঞতারযুগে সেরা তারা ইসলাম গ্রহণের পরও সেরা’। কেননা সে তার খারাপ গুণকে ভালো গুণে রূপান্তরিত করেছে ইসলামের কল্যাণে।

অর্থাৎ প্রত্যেক ধর্মেই ভালো হওয়ার পথ আছে।   অর্থাৎ, সকল চিন্তা, চেতনা, মনন, উদ্দীপনাকে একটি কাঠামোতে নিয়ে এসে সবাইকে ভালো কাজে উদ্বুদ্ধ ও অংশ গ্রহণের সুযোগ সৃষ্টিই হল যুব ঐক্য। আমি এরকম ঐক্য চাই।

 প্রশ্ন : আপনাদের প্রচারিত শেখ হাসিনার রাজনৈতিক দর্শন ‘জনগণের ক্ষমতায়ন’ মডেল জাতিসংঘে সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হয়েছে। সম্প্রতি এ নিয়ে ঢাকায় আন্তর্জাতিক সেমিনার হয়ে গেল। এই দর্শন নিয়ে আপনাদের পরবর্তী কর্মসূচি কী?  

মো. ওমর ফারুক চৌধুরী : রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার দর্শনের মূল কথা হল জনগণ। জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস। এই আপ্ত বাক্যটি অনেকেই আওড়েছেন, কিন্তু সমসাময়িক বিশ্ব রাজনীতিতে এটির চর্চা করেছেন একমাত্র শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা কিন্তু বিশ্বে আলোচিত নেতাদের মধ্যে একমাত্র ‘সেলফ মেড’ পলিটিশিয়ান। ইন্দিরা গান্ধীকে যেমন নেহেরু তৈরি করেছেন, বেনজীর ভুট্টোকে যেমন ভুট্টো তৈরি করেছেন, শেখ হাসিনাকে রাজনীতিবিদ হিসেবে কেউ তৈরি করেননি। একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে জনগণের মাঝে, জনগণের অনুভূতি, চিন্তা-চেতনাকে ধারণ করে তিনি বেড়ে উঠেছেন। অনেক চড়াই-উতরাইয়ের পর তিনি আজ এখানে। কতবার তিনি মৃত্যুর মুখোমুখি হয়েছেন। জীবনকে তুচ্ছ করে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা বাংলা ও বাঙালির শেষ নির্ভরযোগ্য ঠিকানায় পৌঁছেছেন। তাই জনগণই তার চেতনার মূল অনুভূতি।

তিনি বিশ্বাস করেন, সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় জনগণকে যত বেশি ক্ষমতাশালী করা যাবে, সিদ্ধান্ত হবে তত গণমুখী ও জনকল্যাণমুখী। কেন তিনি শেয়ার মার্কেটের ব্যাপারে কথা বলবেন? কেন তিনি পোশাক শ্রমিকদের সমস্যা নিয়ে কথা বলবেন? কেন তিনি ঢাকার নিমতলিতে আগুন লাগার পর এতিম মেয়েদের বিয়ের ব্যবস্থা করেন? তিনি তো প্রধানমন্ত্রী, এটা তো তার কাজ নয়। স্ব স্ব, দপ্তর আছে। স্ব স্ব মন্ত্রণালয় আছে। কর্তৃপক্ষ আছে। কোনো রাষ্ট্রপ্রধানকে কখনও করতে শুনেছেন? না। সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া গণতন্ত্র ও উন্নয়নের জন্যও কার্যকর। এটাই শেখ হাসিনার দর্শনের মূল কথা। এই দর্শন নিয়ে, আমরা গবেষণা করেছি, দর্শনের বিষয়বস্তু নিয়ে বিশ্বের ১৭টি দেশে আমরা সভা, সমাবেশ, সেমিনার করেছি। এ বিষয়ে বিভিন্ন দেশের চিন্তাবিদ, দার্শনিক, শিক্ষাবিদসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ তাদের মতামত দিয়েছেন, মূল্যায়ন করেছেন। পরবর্তীকালে এই মডেল জাতিসংঘে উপস্থাপিত ও গৃহীত হয়েছে। এখন আমরা এই দর্শনের মূল কথাগুলো তৃণমূলে প্রচার করব। এই দর্শনকে যুবলীগের রাজনীতির ভিত্তিমূল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করব। শেখ হাসিনা রাজনীতির বিভিন্ন সময় যে বক্তব্য রেখেছেন এর মধ্যেই লুকিয়ে আছে তার রাজনৈতিক দর্শনের বীজ। এই রাজনৈতিক দর্শনকে আমরা পাদপ্রদীপে আনার জন্য উদ্যাগ নিয়েছি।  

প্রশ্ন: যুবলীগের কার্যক্রমে কি পরিবর্তন আনার প্রয়োজনীয়তা মনে করেন?  

মো. ওমর ফারুক চৌধুরী : যুবলীগকে একটি আধুনিক, তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর এবং যুব সমাজের কাক্সিক্ষত সংগঠন হিসেবে গড়ে তোলার সর্বোচ্চ উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। আমরা যুব সমাজকে একটি জ্ঞান ও যুক্তিনির্ভর, মেধাভিত্তিক সংগঠন হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। যুবলীগে নেতৃত্বের বিকাশ ঘটাতে চাই, আদর্শিক চেতনাকে জাগ্রত করতে চাই, সে লক্ষ্যেই যুবলীগের প্রচার কৌশল ইতিমধ্যে পাল্টাতে শুরু করেছে। গত তিন বছর ধরে আমরা পোস্টার, দেয়াল লিখনের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছি। প্রচার প্রচারণা হবে পত্রিকার মাধ্যমে। কর্মীদের আদর্শিক মান উন্নয়নের প্রশিক্ষণ এবং নেতৃত্বে গুণাবলি বিকাশের লক্ষ্যে কার্যক্রম নেওয়া হবে। পাশপাশি, বিভিন্ন ক্ষেত্রে যুবপ্রতিভা অন্বেষণ করে তাদের কাজে লাগানো হবে।  

আমাদের দুধরনের ভাবনা আছে। একটি হচ্ছে শহরের  আরেকটি হচ্ছে গ্রামীণ। ভিন্নতাগুলো খুব স্পষ্ট। যেমন আশা-আকাক্সক্ষা ভিন্ন, সুযোগ-সুবিধা ভিন্ন, মতামত ভিন্ন, অর্থনৈতিক কন্ডিশন ভিন্ন। যার মধ্যে তারা দুই জনগোষ্ঠীর মধ্যে ভিন্নতা আছে। তাদের কাছে উপস্থাপন করতে হবে ভিন্নভাবে।  শহরের যুব সমাজের বিষয় আর  গ্রামীণ যুব সমাজের বিষয়গুলোকে আরও গবেষণা করে ভিন্নভাবে উপস্থাপন, ভিন্নভাবে সমাধান করার চেষ্টা করতে হবে। প্রশ্ন হচ্ছে রাজনীতি কি আদর্শগত নাকি নিছক প্রতিপালন করা? রাজনীতি কি কথার কথা নাকি হ্যালো, হাই, স্যুট-টাই আর ফিতাওয়ালা, শার্ট, গলায় চেইন, হাতে ব্রেসলেট, অথবা টি-সার্ট আর গলায় চেইন পায়ে কেড্স পরা যুবক।  

দল করতে হলে আদর্শের প্রয়োজন। সাথে ম্যানেজমেন্টকে ঢেলে সাজাতে হবে। আগে ছিল ‘কর্পোরেট ম্যানেজমেন্ট’ এখন হবে ‘কর্পোরেট বিহেভিয়ার’। প্রচারণাগুলোকে ঢেলে সাজাতে চাই। যেমন একটি বা দুটি পত্রিকায় মাসে একটি পৃষ্ঠা বরাদ্দ থাকবে ‘যুবলীগের নোটিস বোর্ড’ এ নামে সকল ইউনিয়ন/ওয়ার্ড/থানা/জেলা/ কেন্দ্রের সভা, নির্দেশনা, খবরাখবর, সম্মেলন, কর্মসূচি ইত্যাদির সংবাদ। প্রত্যেকটি ইউনিটের জানা হয়ে যাবে ঐ তারিখ, ঐ পত্রিকা, পৃষ্ঠার নম্বর উল্লেখ থাকবে। আমরা কী বলতে চাই, ওরা কী জানতে চায়, ওয়েবসাইটের মাধ্যমে মতবিনিময় হবে। এর জন্য একজন এডিটর নিয়োগ করা হবে। নির্দেশনা বাস্তবায়ন করবে। সমস্ত ওয়ার্ড থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত এসএমএস নেটওয়ার্ক ইন্টারেকটিভ হতে হবে। বিভিন্ন বিষয়ভিত্তিক ৩ দিন বা ২ দিনের কোর্স। যেমন ‘যুবলীগের নেতৃত্ব কর্মশালা’, ‘আয়বর্ধক কাজের জন্য কর্মশালা’, ওয়ার্কশপ, সমবায়ের মাধ্যমে যুবদের প্রশিক্ষণ ইত্যাদি। রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার নির্দেশনাবলি প্রচার করাই আমাদের কাজ।  

প্রশ্ন : ’৭৫-এর আগের রাজনীতি এবং বর্তমান রাজনীতির পার্থক্যকে কীভাবে বিশ্লেষণ করেন?  

মো. ওমর ফারুক চৌধুরী : ’৭৫-এর পরবর্তীকালে রাজনীতির মৌলিক চরিত্র পাল্টেছে, বলা যায় পাল্টে ফেলা হয়েছে। রাজনীতিকে বিরাজনীতিকরণের মাধ্যমে এর আদর্শিক চেতনাকে শুষে নেওয়া হয়েছে। পৃথিবীতে এমন কোনো দোকান নেই, যেখানে তা রেডিমেট কিনতে পাওয়া যায়। নেতা গাছে ধরে না। বহু পথ মানুষের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে হাঁটার পর নেতা তার নেতৃত্বে আবির্ভূত হন।  

’৭৫-এর আগে ছিল রাজনীতিবিদ এরপর পর্যায়ক্রমে হল রাজনীতিজীবী। স্বৈরশাসকরা ক্ষমতায় এসে ‘ডিফিকাল্ট’ করে জীবিকা নির্বাহ করার পথ করে দিয়েছে। পেশাজীবী, শ্রমজীবী, আইনজীবী, মৎসজীবী, বিভিন্ন পেশার পর নতুন সংযোজন রাজনীতিকে ‘ডিফিকাল্ট’ করার কাজটি করেছেন জিয়াউর রহমান সাহেব, যিনি একজন রাজনীতিজীবী। সেজন্য এখন আর ত্যাগের প্রয়োজন নেই।

রাজনীতি হচ্ছে কঠিন ত্যাগ তিতিক্ষার ব্যাপার। মানুষকে রাষ্ট্রচিন্তায় উদ্বুদ্ধ করার বিষয়। তার মধ্যে প্রেরণা সৃষ্টির মন্ত্র, মানবকল্যাণের আদর্শিক উপায়। রাষ্ট্রকে যুগ যুগান্তরের জন্য উপযোগী করে গড়ে তোলার মহান অলাভজনক পেশা।  

’৭৫ সালের পরবর্তীকালে পেশার পরিবর্তন ঘটানো হয়। অধ্যাপক, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, আমলা, অবসরপ্রাপ্তরা, সাংবাদিক, সাহিত্যিক, লেখক, ব্যবসায়ী, শিল্পপতি, ছাত্র, যুবক, শ্রমিক সব পেশার লোক পরিচিত হতে চায় রাজনীতিবিদ হিসেবে। কারণ, এই পেশা সর্বোচ্চ পেশায় পরিণত করেছেন লে. জে. জিয়াউর রহমান এবং লে. জে. এরশাদ। রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা আমাদের শিখিয়েছেন, বুঝিয়েছেন রাজনীতির একটি সহজপাঠ। নেতার জন্ম হয় জনতার ভালবাসা থেকে। কর্মীর কাছে গ্রহণযোগ্য না হলে নেতা সাজা যায় কিন্তু নেতা থাকা যায় না।  

এই জনতার ভালবাসা পেতে হলে ন্যায়সঙ্গত দাবিতে অটল থাকতে হবে, দাবি আদায়ের জন্য মিছিলে যেতে হবে। পুলিশি প্রহারকে বরণ করে নিতে হবে, কর্মীর কাছে গ্রহণযোগ্য হতে হলে কর্মীর সব সময় উচ্চ প্রশংসা করতে হবে। প্রতিটি মানুষের কাছে তার নিজের নামটিই কিন্তু পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর একটি শব্দ। মানুষের মনও এক প্রকার যন্ত্র। ঠিকঠাক মতো ডায়াল করলে জনতা রিসিভার তুলতে বাধ্য। বাঁশি বাজালেই কেউ নাচে না। তার সুরের মধ্যে নাচের উন্মোদনা থাকলেই নাচে। ‘হ্যামিলনের বংশীবাদক’ সবাই হতে পারে না।  

এই বাংলাদেশে এখন সেই বংশীবাদক রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা, তিনিই রাজনীতিবিদ। আমরা সবাই রাজনীতিজীবী। আপনি, আমি, সবাই। কাউকে দোষারোপ করে লাভ নেই।  

প্রশ্ন : বঙ্গবন্ধুর ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ থেকে দেশের বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকায়, ম্যাগাজিন, সাপ্তাহিক, মাসিক এবং ওয়েবসাইটে বাণীগুলো প্রচার করছেন কেন?  

মো. ওমর ফারুক চৌধুরী : বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত  আত্মজীবনী পাঠ করে মনে হল তিনি চাইলে লেখক হতে পারতেন। শুনেছি, ভারতের রাষ্ট্রপতি এক রাতে বইটি পাঠ করেছেন। দেশেও যারা পাঠ করেছেন তারাও বলছেন শেষ না করে ওঠা যায় না। বঙ্গবন্ধুর সাহিত্যপ্রতিভা ফুটে উঠেছে।  

এই বইতে জীবন ও রাষ্ট্র সম্পর্কে যে কথাগুলো আছে খুব সহজ সরল ভাষায় তাকে সামনে নিয়ে এসেছে যুবলীগের গবেষক দল, রাষ্ট্রনায়ক, সম্রাট, সাবেক প্রেসিডেন্ট, কবি, সাহিত্যিক, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী, নাট্যকার, মনোবিজ্ঞানী, বুদ্ধিজীবী, সংগ্রামী, রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক, অধ্যাপক, গবেষক, লেখক, উপন্যাসিক, প্রবাদ এগুলোই তো বাণী। দুঃখই জ্ঞান, জ্ঞানই শক্তি। যে নিজের জন্য বেশি চিন্তা করে সে দেশের জন্য কিছু করতে পারে না। মানুষের ওপর বিশ্বাস হারানো পাপ। অন্যের মুখ বন্ধ করানোর আগে নিজের মুখ বন্ধ কর। এ জগতে যিনি ওঠেন, তিনি সাধারণ ঘরে জন্মিয়ে, সাধারণের মধ্যে বড় হয়ে, সাধারণের ওপর মস্তক তুলে দাঁড়ান, তিনি আপন গুণেই বড়। তিনিই বঙ্গবন্ধু। তিনি এই কথাগুলোই বলেছেন। তাই কবি হেলাল হাফিজ লিখেছেন কে আছেন, দয়া করে আকাশকে বলেন, একটু উপরে উঠুক, আমি দাঁড়াতে পারছি না, বঙ্গবন্ধু ছাড়া এমন উচ্চতায় কে আছেন, যিনি এই কবিতার নায়ক হতে পারেন?  

বঙ্গবন্ধুর দীর্ঘদেহ, চির উন্নত শির তার পায়ের কাছের বামনদের দিকে তাকাবে কেবল করুণা দেখানোর জন্যই।  

ব্যাপক অনুসন্ধানে আগ্রহী হয়ে ও উৎসাহ নিয়ে গ্রন্থটি নিবিড় মনোযোগসহকারে পাঠ করে বঙ্গবন্ধুকে নতুন মাত্রা ও উচ্চতায় পেলাম। প্রতি শব্দে বাক্যে চোখের সম্মুখে মহৎ মানুষটি বারবার উদ্ভাসিত। প্রতিযোগিতাহীন ভরাট কণ্ঠ যেন বারবার শ্রবণেন্দ্রিয়কে মধুর ঝংকারে হিন্দোলিত ছন্দে মোহবিষ্ট করে রেখেছে।

গ্রন্থটি যারাই পড়েছেন তারাই জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর উপস্থিতি টের পেয়েছেন। এবং বারবার শিহরিত ও রোমাঞ্চের স্বাদ পেয়েছেন বলে অনেকেই বলেছেন।

রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার তথ্যকণিকা

পরিচিতি
ভাষণ
বার্তা

চেয়ারম্যান ডেস্ক

পরিচিতি
ভাষণ
বার্তা

সাধারণ সম্পাদক ডেস্ক

পরিচিতি
ভাষণ
বার্তা

যুবলীগ প্রকাশনা