যুবলীগ সংবাদ :

যুবজাগরণ পাঠাগার ও বিক্রয়কেন্দ্র উদ্বোধন বঙ্গমাতাকে নিয়ে যুবলীগের স্মারকগ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে রুখে দাড়াতে হবে : যুবলীগ চেয়ারম্যান জঙ্গিমুক্ত দেশ গড়তে যুবলীগের শপথ রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার কারামুক্তি দিবস পালিত শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে যুবলীগের সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচি স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে যুবলীগের শ্রদ্ধাঞ্জলী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষ্যে যুবলীগের শ্রদ্ধাঞ্জলী বইমেলায় যুবলীগের নান্দনিক আয়োজন যুবলীগ চেয়ারম্যান সম্পাদিত বইয়ের মোড়ক উন্মোচন আওয়ামী যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শেখ ফজলুল হক মনির ৭৭ তম জন্মদিন পালিত। পৌর নির্বাচনী প্রচারণায় যুবলীগের কমিটি গঠন মোমবাতি জ্বালিয়ে শহীদদের প্রতি যুবলীগের শ্রদ্ধা মালয়েশিয়ায় যুবলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার অগ্রযাত্রার মিছিলে তারুণ্যের প্রেরণা আর সাহসের দিন শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস---যুবলীগ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ওমর ফারুক চৌধুরী
খালেদা জিয়ার কণ্ঠে ক্ষমতালিপ্সুর আর্তনাদঃ ওমর ফারুক চৌধুরী
03/03/2014 12:50 AM

১৮ মার্চ,  ২০১৩


খালেদা জিয়ার কণ্ঠে ক্ষমতালিপ্সুর আর্তনাদঃ ওমর ফারুক চৌধুরী

জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সাম্প্রতিক বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ওমর ফারুক চৌধুরী বলেছেন, তার বক্তব্য উস্কানিমূলক, দায়িত্বজ্ঞানহীন এবং জাতির প্রতি অবমাননাকর। বেগম জিয়ার বক্তব্যকে তিনি ‘হিতাহিত জ্ঞানশূন্য এক ক্ষমতালিপ্সুর আর্তনাদ’ হিসেবে চিহ্নিত করে বলেন বেগম জিয়া জনগণের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন।’

এক বিবৃতিতে গতকাল রোববার ওমর ফারুক চৌধুরী বলেন, আমরা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি বেগম খালেদা জিয়া কদিন ধরে বিভিন্ন স্থানে সভা-সমাবেশ করে কিছু উস্কানিমূলক বক্তব্য রাখছেন। এ বক্তব্যগুলো সুস্পষ্ট মিথ্যাচার, পক্ষপাতপূর্ণ এবং ফ্যাসিবাদী আস্ফালন। সম্প্রতি বিএনপির কার্যালয় পরিদর্শনে গিয়ে এক সমাবেশে বেগম জিয়া অভিযোগ করেছেন, যুদ্ধাপরাধী সাঈদীর রায়ের পর সারাদেশে সরকার ‘গণহত্যা’ চালিয়েছে। একটি রাজনৈতিক দলের নেত্রী এ রকম মিথ্যাচার করতে পারেন, এটা বিস্ময়কর।

ইতিহাসের একটি জঘন্যতম গণহত্যা, মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের ৩০ লাখ মানুষ নির্মমভাবে নিধনের জন্য যারা অপরাধী এবং বিচারাধীন তাদের বিচার ও দণ্ড ভণ্ডুল করার লক্ষ্যে বিরোধীদলীয় নেত্রী মাঠে নেমেছেন। তিনি যে অসংযত ও হুমকির ভাষায় কথা বলেছেন, তা কোনো গণতান্ত্রিক দলের নেত্রীর ভাষা হতে পারে না।

বিবৃতিতে যুব নেতা ওমর ফারুক চৌধুরী বলেন, জামায়াত-শিবির সারাদেশে যেভাবে তাণ্ডব ও নৃশংস নাশকতা চালালো, ধর্মকে নিয়ে মিথ্যা বেসাতি করলো, এমনকি সাঈদীকে চাঁদে দেখার মতো জঘন্য মিথ্যাচার করলো এসব নিয়ে বেগম জিয়া ‘টু’ শব্দ পর্যন্ত করলেন না। এ থেকে বোঝা যায়, যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচাতেই তিনি এভাবে রুদ্রমূর্তি ধারণ করেছেন। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হচ্ছে এ কারণে তিনি ক্ষোভে কথার মাত্রাজ্ঞান হারিয়ে ফেলেছেন। খালেদা জিয়া যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের ব্যাপারে সামান্য দূরত্বটুকুও বজায় রাখেননি। ঘাতক ও সন্ত্রাসীর সঙ্গে এক হয়ে গেছেন।

ওমর ফারুক চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশে মানবতার শত্রু এবং রাষ্ট্রদ্রোহীদের বিচারে সন্ত্রাস সৃষ্টি করে বাধাদান এবং সেই বাধাদানকে সমর্থন জানানো কি রাষ্ট্রদ্রোহ নয়! এ সন্ত্রাসে জামায়াত পুলিশকে হত্যা করেছে। আন্দোলনের নামে নিরীহ বাসযাত্রী পুড়িয়ে মেরেছে, বাস ও প্রাইভেট গাড়ি পুড়িয়েছে, বিদ্যুৎকেন্দ্র উড়িয়ে দিয়েছে, ট্রেন জ্বালিয়ে দিয়েছে, দেশের একাধিক তরুণকে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে, জামায়াত-শিবির সহিংসতা করে চলছে। অথচ তাদের সমর্থন দিচ্ছেন খালেদা জিয়া। 

বিএনপি ও দলের চেয়ারপারসন বেগম জিয়ার গণবিরোধী আদর্শ উল্লেখ করে ওমর ফারুক বলেন, ’৭১-এর যুদ্ধাপরাধীদের দণ্ডদানের দাবিতে চলমান বিশাল গণআন্দোলনকে ‘মঞ্চফঞ্চ’ বলে পরিহাস করা এবং আওয়ামী লীগ সরকারকে নানাভাবে কটাক্ষ করে বেগম খালেদা জিয়া প্রকৃতপক্ষে নিজের চরিত্রের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছেন। তিনি সরাসরি জনতার বিরুদ্ধে এবং মানবতার শত্রুদের শিবিরে শামিল হয়েছেন। খালেদা জিয়া বলেছেন, শাহবাগে যায় নাস্তিক প্রকৃতির তরুণ, এরা সেখানে গিয়ে নাচ-গান করছে। অপকর্ম করছে। আসলে খালেদা জিয়ার দৃষ্টিতে ভালো তরুণ তারাই যারা হাওয়া ভবন গঠন করে হাজার হাজার কোটি টাকা দুর্নীতি করতে পারবে। তার কাছে মাদকাসক্ত ও বোমাবাজরাই ভালো তরুণ।

ওমর ফারুক চৌধুরী বলেন, আসলে বেগম জিয়া কী চান? সেদিন তিনি বলেছেন, ‘আন্দোলন করতে গেলে হয়তো আর কিছু প্রাণহানি হবে, জানমালের ক্ষতি হবে। কিন্তু দেশের স্বার্থে মানুষের স্বার্থে এ ক্ষতি মেনে নিতে হবে।’ তার কথায় বোঝা যাচ্ছে বিরোধীদলীয় নেত্রী খালেদা জিয়া আসলে রক্তপাত চাচ্ছেন। লাশের ওপর দিয়ে ক্ষমতায় যেতে চাচ্ছেন। তিনি নিজের পরিবারকে সুরক্ষিত রেখে মানুষের লাশ নিয়ে রাজনীতি করতে চান। এ ন্যক্কারজনক বক্তব্যের মধ্য দিয়ে তিনি হত্যাকে উস্কে দিয়েছেন। একজন বিরোধীদলীয় নেতার এ বক্তব্য মেনে নেওয়া যায় না। খালেদা জিয়া কথায় কথায় সবাইকে নাস্তিক হিসেবে ঘোষণা করছেন। ইসলাম গেল, ইসলাম গেল বলে রব তুলছেন। বেগম জিয়ার কাছে আমার প্রশ্ন ইসলাম ধর্মের ইজারা কে দিল আপনার কাছে? আল্লাহ’ইতো বলেছেন, তিনি নিজে ইসলাম রক্ষা করবেন। কে আস্তিক আর কে নাস্তিক তা নির্ধারণ করার আপনি কে? যখন একজনকে আপনি নাস্তিক বলবেন, তখন সে যদি আস্তিক হয় তাহলে আপনি (খালেদা জিয়া) নিজেইতো নাস্তিক হয়ে যাবেন। তাহলে কি আমরা ধরে নেব, বেগম জিয়ার আস্তিকতার সংজ্ঞা হলো মহান আল্লাহকে নয়, যিনি খালেদা জিয়ার ওপর বিশ্বাস রাখবেন তিনিই আস্তিক (নাউজুবিল্লাহঃ)? ওমর ফারুক চৌধুরী বলেন, প্রতিক্রিয়াশীল ও জঙ্গিবাদী রাজনীতির সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী প্রগতিশীল তরুণদের পার্থক্য এখানেই। এ অহিংস শান্তিপূর্ণ এবং সৃজনশীল কার্যক্রমই শাহবাগ আন্দোলনের বড় শক্তি। 

শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চের সমালোচনা করে বেগম জিয়া যে বক্তব্য দিয়েছেন সে বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে যুবলীগ চেয়ারম্যান বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষায় খালেদা জাতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। শাহবাগের ‘গণজাগরণ মঞ্চ’ জাতির আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীক। তারুণ্যের আকাঙ্ক্ষার প্রতীক। এর বিরুদ্ধে কথা বলে কার্যত তিনি জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। তার কণ্ঠে ’৭১-এ ইয়াহিয়া খানের বক্তব্যই পুন:উচ্চারিত হচ্ছে। 

খালেদা জিয়ার বক্তব্যকে ক্ষমতালোভীর প্রলাপ হিসেবে বর্ণনা করে যুবলীগের চেয়ারম্যান বলেন, জনগণের সম্পদ ও জীবনকে তিনি ক্ষমতার সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছেন। মানুষের রক্তে স্নান করে বেগম জিয়ার ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন এ দেশের মানুষ কোনোদিন পূরণ হতে দেবে না। ওমর ফারুক চৌধুরী বলেন, এর মাধ্যমে আগামীতে রাজনৈতিক সহিংসতায় যে প্রাণহানি হবে, জানমালের ক্ষতি হবে, তার দায়-দায়িত্ব বেগম জিয়াকেই নিতে হবে।

আওয়ামী যুবলীগের চেয়ারম্যান বলেন, গত তিন দিনে বেগম জিয়া ঢাকা, মুন্সীগঞ্জ এবং মানিকগঞ্জে যেসব বক্তব্য দিয়েছেন, তাতে প্রমাণিত হয়েছে যে, বেগম জিয়া জামায়াতের মুখপাত্র। যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচানোই তার জিঘাংসার মূল উদ্দেশ্য। বাংলাদেশের জনগণের যুদ্ধে বেগম জিয়া অবশ্যই পরাজিত হবেন।

ওমর ফারুক চৌধুরী বলেন, বেগম জিয়া জনতা ও জামায়াতের মধ্যকার যুদ্ধে জামায়াতের পক্ষ নিয়েছেন। এ যুদ্ধে জামায়াতকে শক্তি জুগিয়ে তিনি কি তাদের সন্ত্রাস সফল করতে পারবেন? ইতিহাসে সন্ত্রাস সফল হওয়ার কোনো নজির নেই। মনে রাখবেন, আওয়ামী লীগের বিরোধিতা করে রাজনীতিতে টেকা যায় কিন্তু জনগণের বিরোধিতা করে রাজনীতিতে টেকা যায় না। একথাও সত্য মানুষের শক্তি যত কমে আসে মুখের বিষ ততই উগ্র হয়ে ওঠে।

রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার তথ্যকণিকা

পরিচিতি
ভাষণ
বার্তা

চেয়ারম্যান ডেস্ক

পরিচিতি
ভাষণ
বার্তা

সাধারণ সম্পাদক ডেস্ক

পরিচিতি
ভাষণ
বার্তা

যুবলীগ প্রকাশনা