যুবলীগ সংবাদ :

শোকাবহ আগস্ট মাসব্যাপী বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের কর্মসূচী যুবজাগরণ পাঠাগার ও বিক্রয়কেন্দ্র উদ্বোধন বঙ্গমাতাকে নিয়ে যুবলীগের স্মারকগ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে রুখে দাড়াতে হবে : যুবলীগ চেয়ারম্যান জঙ্গিমুক্ত দেশ গড়তে যুবলীগের শপথ রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার কারামুক্তি দিবস পালিত শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে যুবলীগের সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচি স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে যুবলীগের শ্রদ্ধাঞ্জলী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষ্যে যুবলীগের শ্রদ্ধাঞ্জলী বইমেলায় যুবলীগের নান্দনিক আয়োজন যুবলীগ চেয়ারম্যান সম্পাদিত বইয়ের মোড়ক উন্মোচন আওয়ামী যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শেখ ফজলুল হক মনির ৭৭ তম জন্মদিন পালিত। পৌর নির্বাচনী প্রচারণায় যুবলীগের কমিটি গঠন মোমবাতি জ্বালিয়ে শহীদদের প্রতি যুবলীগের শ্রদ্ধা মালয়েশিয়ায় যুবলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার অগ্রযাত্রার মিছিলে তারুণ্যের প্রেরণা আর সাহসের দিন শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস---যুবলীগ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ওমর ফারুক চৌধুরী
হত্যা-লুটতরাজ চালিয়ে জামায়াত দেশকে অস্থিতিশীল করতে চাইছেঃ ওমর ফারুক চৌধুরী
03/03/2014 12:49 AM

০৫ মার্চ ২০১৩

হত্যা-লুটতরাজ চালিয়ে জামায়াত দেশকে অস্থিতিশীল করতে চাইছেঃ  ওমর ফারুক চৌধুরী

প্রশ্ন : সারা দেশে যে সন্ত্রাস, সহিংসতা চলছে তাতে মানুষ উদ্বিগ্ন, যুবলীগের চেয়ারম্যান হিসেবে আপনি বিষয়টাকে কীভাবে দেখছেন? 

উত্তর : আপনারা গণমাধ্যমে যা দেখাচ্ছেন এবং লিখছেন এবং সারাদেশ থেকে আমরা যে খবর পাচ্ছি তাতে এক কথায় বলা যায়Ñ জামায়াত-শিবির সারাদেশে একটা নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা করছে। ’৭১-এর মতোই সন্ত্রাস চালিয়ে মানুষ হত্যা করে, লুটতরাজ অগ্নিসংযোগ করে বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করে তুলতে চাইছে। বস্তুত : এর মাধ্যমে এটা স্পষ্ট হয়েছে যে জামায়াত একটি ফ্যাসিস্ট শক্তি। দল হিসেবেই জামায়াত যুদ্ধাপরাধী এবং মানবতাবিরোধী। আমি ধন্যবাদ জানাতে চাই, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারীবাহিনীকে। তারা জামায়াত-শিবিরের তাণ্ডব ও নাশকতা চরম ধৈর্য্যরে সংঙ্গে মোকাবিলা করেছে। সাধারণ মানুষের জানমালের রক্ষায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দৃষ্টান্তমূলক ভূমিকা পালন করেছে। আমি বলতে চাই যেকোনো রায়ের বা সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হতেই পারে, কিন্তু রেললাইন উপড়ে ফেলা, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেওয়া, শিশু ও নারীদের মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করা, মানুষ হত্যা এসব কোনো ধরনের প্রতিবাদ? কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষে এ ধরনের নাশকতা করা সম্ভব নয়। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী, প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা জনগণের ক্ষমতায়নে বিশ্বাসী। আজকে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ‘জনগণের ক্ষমতায়ন’ এর ফল। তাই, জনগনের সম্মিলিত শক্তির কাছে এই অপশক্তি পরাজিত হবেই।

প্রশ্ন : আপনি বললেন, জামায়াত-শিবিরের তাণ্ডব। কিন্তু এর বিরুদ্ধে আমরা ছাত্রলীগ-যুবলীগকে সোচ্চার দেখছি না কেন?

উত্তর : দেখুন, ছাত্রলীগের ব্যাপারে কথা বলার এখতিয়ার আমার নেই। আমি যুবলীগের চেয়ারম্যান হিসেবে, যুবলীগের বিষয়টাই শুধু বলতে পারি। যুবলীগ যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে অহিংস রাজনৈতিক কর্মসূচি করে আসছে।

যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শেখ ফজলুল হক মনি ছিলেন যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রক্রিয়া উদ্যোক্তা। জাতির পিতা যখন যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রক্রিয়া শুরু করেন, তখন যুবলীগ রাজনৈতিকভাবে এই বিচারকে সমর্থন করেন। কিন্তু ১৯৭৫ এর ১৫ আগস্টের পর থেকে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের পথ রুদ্ধ করেন পাকিস্তানি গুপ্তচর জিয়াউর রহমান। তিনিই জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি শুরু করেন, গোলাম আযমকে দেশে ফিরিয়ে আনেন। রাজাকারকে প্রধানমন্ত্রী করেন। ১৯৮১ সালে রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের দায়িত্বভার গ্রহণের পর থেকেই তিনি যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য গণজাগরণের সূচনা করেন। রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার নির্দেশে তখন থেকেই বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের লক্ষ্যে জনগণের জাগরণের কাজটি শুরু করেন। এটাই হলো ‘জনগণের ক্ষমতায়ন’।  যুদ্ধাপরাধীদের দাবিতে যে ‘গণজাগরণ’ সেই গণজাগরণ সৃষ্টিতে যুবলীগের ভূমিকা অনস্বীকার্য। আপনাকে মনে রাখতে হবে, যুবলীগ শিবিরের মতো কোনো ফ্যাসিস্ট সংগঠন নয়। আমরা পেশীশক্তিতে বিশ্বাসী নই। যুবলীগ মেধা মনন ও যুক্তির মাধ্যমে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের পক্ষে একটি গণজাগরণ সৃষ্টি করার কাজ করছে। আমরা মনে করি, জামায়াত-শিবিরের তাণ্ডব মোকাবিলায় প্রয়োজন জনগণের জাগরণ, পাল্টা সন্ত্রাস নয়। যুবলীগ সন্ত্রাসের রাজনীতিতে বিশ্বাসী নয়।

প্রশ্ন : শাহবাগের প্রজন্ম চত্বরের গণজাগরণ সমাবেশ নিয়ে অনেক কথা বলা হচ্ছে। বলা হচ্ছে, এটা সরকারের সাজানো নাটক। আপনার বক্তব্য কী ?

উত্তর : শাহবাগের গণজাগরণকে যারা সরকারের সাজানো নাটক বলেন তারা দেশের মানুষের হৃদয়ের কথা অনুধাবন করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। শাহবাগের জাগরণ তারুণ্যের আকাঙ্ক্ষার স্বতস্ফূর্ত:স্ফুরণ। হ্যাঁ, আওয়ামী লীগ কিংবা যুবলীগ যেহেতু মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাস করে, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চায়, তাই শাহবাগের আন্দোলনের প্রতি আমাদের সমর্থন আছে। এটা কোনো লুকোচুরির বিষয় নয়। শাহবাগের আন্দোলন হলো জনগণের ক্ষমতায়নের একটা প্রতীক। সরকারও যদি যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবি থেকে ঘরে আসে তাহলে শাহবাগ কি সরকারের পক্ষে থাকবে? শাহবাগের আন্দোলন হলো ২০০৮ এ আওয়ামী লীগের তিন চতুর্থাংশ আসন প্রাপ্তির হিসাব।

প্রশ্ন : বেগম জিয়া সম্প্রতি সরকারের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ এনেছেন, একে আপনি কী বলবেন?

উত্তর : বেগম জিয়া তো আজ থেকে একথা বলছেন না। তার স্বামী জিয়াউর রহমান ’৭১ এ মুক্তিযুদ্ধ করলেও আসলে ছিলেন পাকিস্তানি গুপ্তচর। বেগম জিয়া ক্ষমতায় এসে রাষ্ট্রপতি করেন রাজাকারকে। দ্বিতীয় মেয়াদে তিনি চিহ্নিত দুই যুদ্ধাপরাধীকে মন্ত্রী বানান। আওয়ামী লীগ দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে যখন যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু করেন তখন থেকেই বেগম জিয়ার অস্থিরতা আমরা দেখেছি। বার বার তিনি এই বিচার বানচালের জন্য আন্দোলন করেছেন, হরতাল করেছেন। বেগম জিয়াই আসলে এখন জামায়াতের আমির। কাজেই তিনি জামায়াত শিবিরের নৃশংস বর্বরতা দেখেন না, তিনি দেখেন গণহত্যা। যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচানো এবং তার দুই দুর্নীতিবাজ পুত্রকে বাঁচানোই খালেদা জিয়ার রাজনীতিরএকমাত্র উদ্দেশ্য। এজন্যই তিনি সিঙ্গাপুর থেকে এসেই এসব কথা বলেছেন। এর জবাবে আমি বলতে চাই, সম্মানিত বিরোধী দলের নেত্রী এধরনের কথা বলে, নিজেই মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছেন।   

প্রশ্ন : কিন্তু প্রধান বিরোধী দল যখন যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে প্রশ্ন তোলে, তখন এটা বাস্তবায়ন কতটা সম্ভব?   

উত্তর : প্রধান বিরোধী দল তো জাতির পিতার আত্মস্বীকৃত খুনিদেরও লালন করেছিল। তাদের রক্ষায় ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারী করেছিল। বিদেশে কূটনৈতিক চাকরি দিয়েছিল। কিন্তু জনগণের আকাক্সক্ষার কাছে তাদের কূটচাল ও চক্রান্ত পরাস্থ হয়েছিল।  

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার আজ গণদাবি। এই গণদাবির বিরুদ্ধে যারাই যাবে, তারাই ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হবে। আমি তো মনে করি, ২০০৮ এর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের তিন-চতুর্থাংশ আসন প্রাপ্তির মূল কারণ ছিলা, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের অঙ্গীকার। বিএনপি যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিপক্ষে গিয়ে আবারও ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হবে। কারণ, তরুণ প্রজন্ম এখন অনেক সচেতন। বাংলাদেশের মাটিতে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হবেই হবে, ইনশাল্লাহ।
 

রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার তথ্যকণিকা

পরিচিতি
ভাষণ
বার্তা

চেয়ারম্যান ডেস্ক

পরিচিতি
ভাষণ
বার্তা

সাধারণ সম্পাদক ডেস্ক

পরিচিতি
ভাষণ
বার্তা

যুবলীগ প্রকাশনা